বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর মা মমতাজ বেগমের প্রয়াণে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এসময় আইভীকে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান শামীম ওসমান। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আইভীর দেওভোগের বাড়ি ‘চুনকা কুটিরে’ যান শামীম ওসমান। এর আগে বিকেলে মাসদাইরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মেয়র আইভীর মা মমতাজ বেগমের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন তিনি।

সাংসদ শামীম ওসমান আইভীর বাড়িতে প্রবেশ করেই সেখানে আইভীর দুই ভাই ও বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার দুই ছেলে আহমেদ আলী রেজা উজ্জ্বল ও আলী রেজা রিপনকে সান্ত্বনা দেন। তাদেরকে এই শোক সহ্য করার মত ধৈর্য্য যেন আল্লাহ দেন সেজন্য দোয়া করেন তিনি। আইভীর পাশে বসে শামীম ওসমান বলেন, চাচি খুব ভালো মানুষ ছিলেন, আল্লাহওয়ালা ছিলেন। আমাদের এখন তাঁর জন্য দোয়া করতে হবে আর এমনভাবে চলতে হবে যেন তাঁদের আত্মা শান্তি পায়। আমিও এতিম আমি বুঝি এতিম হওয়াটা কত কষ্টের সেটা যেই বয়সেই হই না কেন।

এ সময় আইভী বলেন, আগামী শনিবার বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ আমাদের মসজিদে আপনারা আসবেন। পরে শামীম ওসমান তাঁর সাথে সেখানে যাওয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বলেন, শনিবার চাচীর মিলাদ আপনারা মাস্ক পড়ে নিয়ম মেনে এখানে আসবেন। এর আগে কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের শামীম ওসমান বলেন- মৃত মানুষের কোন পরিচয় নেই। আমি ব্যক্তি গতভাবে মনে করি আমার এখানে আরও আগে আসা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা জানেন আমার স্ত্রী খুব গুরুতর অসুস্থ। আজকে আপনাদের সকলের দোয়ায় একটু ভালো অবস্থায় আছেন। আমি প্রথমেই তাঁর জন্য দোয়া চাচ্ছি।

শামীম ওসমান বলেন, আলী আহমদ চাচার সহধর্মিণীর কথা আমার মনে পড়ছে। আমি যখন ৯৬ সালে প্রথম এমপি হই জমির আহমেদ জমু ভাই আমাকে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে বললেন তাঁদের বাড়ির সামনের রাস্তাটি আলী আহমদ চাচার নামে নামকরণ করো। আমি বললাম এটা আমাদের সৌভাগ্য। আমি সাথে সাথে সেটার নামকরণ করি। তখন আমি আলী আহমদ চাচার বাসায় যাই। তার সহধর্মিণীও আমার মায়ের মত। তিনি একজন মা, সন্তানকে যেভাবে ভালবাসে, সেভাবেই ভালবাসা দিয়েছিলেন। তিনি আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন। আমাদের তাঁর জন্য কিছু করার নেই। আমি নিজের মায়ের জন্য যেভাবে দোয়া করি এখানে যারা শুয়ে আছেন সকলের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।

তিনি বলেন, আলী আহমদ চাচার পাঁচজন ছেলে-মেয়ে আছেন। এতিম হওয়া যে কত কষ্টের সেটা যে হারায় সে বুঝে, তা যেই বয়সেই হোক। বাবা-মা যখন চলে যায় তখনই বোঝা যায়। আমি নিজেও একজন এতিম। এতিমের যে কষ্ট এই কষ্ট আল্লাহ যেন তাদের সহ্য করার তৌফিক দান করেন। আমি তাদের প্রতি সহানুভূতি জানাই। তারা যেন ওই পথে চলেন যে পথে চললে তাদের বাবা-মা যেন শান্তি পান। আমরা সবাই যেন এইভাবে এবাদত করতে পারি যেন আমাদের পূর্ব পুরুষরা শান্তি পায়। তিনি আরও বলেন, আমি গত তিনদিন প্রচন্ড বাজে অবস্থায় ছিলাম। আমার স্ত্রী এখনও শয্যাশায়ী। আল্লাহর রহমতে মানুষের দোয়ায় আশা করি সুস্থ হয়ে যাবেন। যিনি চলে গেছেন তিনি আমার মায়ের মত ছিলেন। আমরা তাঁর সন্তান। তাঁর বাড়িতে গিয়ে সহানুভূতি প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুরর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হকসহ নাসিক বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ।

আরও পড়ুন