শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

জুমার দিন বা শুক্রবার সপ্তাহের সেরা মহিমান্বিত দিন। মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদ এই দিনটি। জুমার দিনের অনেক ফজিলত ও গুরুত্বের কথা একাধিকবার হাদিসে এসেছে। পবিত্র আল-কোরআনে জুমা নামে একটি সুরা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

ইবাদতের বিশেষ এ দিনটিকে ইয়াহুদি-নাসারারা গ্রহণ করেনি। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ এ দিনটিকে গ্রহণ করেছে। আর এ দিন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যস্ততা ফেলে দ্রুত নামাজে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। কিন্তু দ্রুত আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ মর্যাদা কী?

প্রথমত : আল্লাহর নির্দেশ
জুমার আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত মসজিদে যাওয়া মহান আল্লাহর নির্দেশ। এ দিনটি আল্লাহর কে স্মরণ করার এবং মসজিদে উপস্থিত হওয়ার বিশেষ দিন। কোরআনুল কারিমে স্বয়ং আল্লাহ দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
‘হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমা : আয়াত ৯)

দ্বিতীয়ত : কোরবানির সাওয়াব নেয়া
মসজিদে আগে উপস্থিত হওয়ার বিশেষ ফজিলত ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবী (সা.)। একাধিক হাদিসে তিনি জুমার নামাজের আজান দেওয়ার আগেই গোসল করে, উত্তম জামা-কাপড় পরে, তেল-সুগন্ধি মেখে নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ায় কোরবানির মর্যাদা পাওয়ার বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাতের (নাপাকি থেকে পবিত্রতার) গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং নামাজের জন্য (সবার আগে মসজিদে) আসে; সে যেন একটি উট কোরবানি করলো। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি গাভী কোরবানি করলো। আর যে তৃতীয় পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করলো। আর যে চতুর্থ পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি মুরগী কোরবানি করলো। আর যে পঞ্চম পর্যায়ে আসে; সে যেন একটি ডিম কোরবানি করলো। তারপর ইমাম যখন খুতবাহ দেওয়ার জন্য (মিম্বারের উদ্দেশ্যে) বের হন; তখন ফেরেশতারা জিকর (উপদেশ) শোনার জন্য (খুতবায়) উপস্থিত হয়ে থাকে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রত্যেক জুমায় কোরবানির মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টা করা। জুমার দিন দেরি না করে আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা অংশীদার হওয়া।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ঘোষিত কোরবানির মর্যাদা ও ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন