শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় দাতাগোষ্ঠী আফগানিস্তানকে ১০০ কোটি ডলারেরও (১ বিলিয়ন) বেশি অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

নতুন খবর হচ্ছে, আফগানিস্তানের বৃহত্তম ও কুখ্যাত কারাগার পুল-ই-চারকি। কারা প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছে কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা। বেশিরভাগের মাথায় পাগড়ি, কাঁধে ঝুলছে বন্দুক। কাবুলের উপকণ্ঠের কারাগারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও পরিচালনার দায়িত্ব তাদের।

আইসিআরসি’র তথ্য অনুসারে, তালেবানরা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে কারাগারটিতে ৯ সহস্রাধিক বন্দি ছিল। ১১টি ব্লকে ভাগ করা এই কারাগারে প্রায়ই একটি ছোট কক্ষে ১২-১৫ জন বন্দিকে রাখা হত।

১৯৮০-র দশকে চালু হওয়া পুল-ই-চারকি নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য পরিচিতি পায়। পরে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র গুয়ানতানামো বে বন্দি শিবির থেকে প্রায় ২৫০ বন্দিকে এখানে স্থানান্তর করে। কিন্তু ১৫ আগস্ট তালেবান যোদ্ধারা কারাগারটি ঘিরে ফেলে এবং বন্দিদের মুক্তি দেয়। মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল কায়েদার সদস্যরাও রয়েছে। যদিও তালেবানের পক্ষ থেকে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। তারা বলছে, আগের আফগান সরকারই কারাগারের দরজা খুলে দিয়েছে।

কারাগারের তালেবান রক্ষী জানান, এখনও কয়েকশ’ বন্দি আছে এবং তালেবানরাই পাহারা দিচ্ছে। অপরাধের কারণে অনেক নতুন মানুষকে বন্দি রাখা হয়েছে।

২০২০ সালের আগস্টে পুল-ই-চারকি থেকে মুক্তি পান হেকমতুল্লাহ হেকমত। তালেবানের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমি সব সময় জানতাম যখন কারাগার থেকে মুক্তি পাবো তালেবানের হয়ে আবার লড়াই করব। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকার আমাদের শত্রু।

তিনি আরও বলেন, তারা যদি আবার ফিরে আসে আমরা ফের যুদ্ধ করব। আমাদের দেশ দখল করা হয়েছিল এবং বিদেশি শক্তি ও তাদের আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা দেশ, ধর্ম ও জনগণকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তালেবান যোদ্ধা হিসেবে মানুষকে হত্যা করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা যুদ্ধ। আমার বন্ধুদের হত্যা করা হয়েছে এবং আমি একজন যোদ্ধা।

হেকমত এই কারাগারে তিন বছর বন্দি ছিলেন। একটি কক্ষে তার সঙ্গে ১৩জন বন্দি ছিল। ১৫ আগস্ট গেট উন্মুক্ত হলে বন্দিরা নিজেদের জিনিসপত্র না নিয়েই পালায়। অনেক কিছু এখনও পড়ে রয়েছে।

পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে ছিলেন ৩৩ বছর বয়সের কুদরতুল্লাহ নাজিম। তার বিরুদ্ধে আশরাফ গণি সরকারের মৃত্যু পরোয়ানা রয়েছে। এক দশকের বেশি কারাগারে কাটানো এই গেরিলা কমান্ডার এখন মুক্ত বিচরণ করছেন। সূত্র: দ্য ন্যাশনাল

আরও পড়ুন