বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

ধ’র্ষ’ণের অ’ভিযোগে মা’মলায় ১০ মাস কারাবাসের পর ডিএনএ টেস্টে নির্দো’ষ প্রমাণিত হন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুরের হাজী শেখ আবুল হাছান। জেল থেকে বাড়ি ফেরার ১০ দিনের মাথায় শুক্রবার মৃ’ত্যুবরণ করেন তিনি। শনিবার (৩১ জুলাই) বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের দাবি, মি’থ্যা অ’পবাদ মাথায় নিয়ে শাস্তি পাওয়া আবুল হাছান মানসিকভাবে বিধ্ব’স্ত হয়েই স্ট্রো’ক করে মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। আবুল হাছানকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তার অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুর জন্য ন্যায় বিচার চাচ্ছেন তার পরিবার। এনিয়ে মাধবপুর গ্রামবাসীর মধ্যেও বিরাজ কছে চাপা উ’ত্তেজনা।

গ্রামবাসীর দাবি, আ’ইন-শৃঙ্খ’লারক্ষাকারী বাহিনী প্রকৃত ধ’র্ষ’ণকারীকে দ্রুত খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা।

সরেজমিন ঘুরে ও ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর ২০২০ সালে উপজেলার মাধবপুর গ্রামের কলেজ পাড়ায় ওমান প্রবাসী ব্যবসায়ী হাজী শেখ আবুল হাছানকে (৫৫) গ্রামের কিছু কুচ’ক্রি মহলের মিথ্যে যোগসাজশে ‘ধ’র্ষ’ণের ঘটনা সাজিয়ে এক মেয়েকে ৪ মাসের গ’র্ভবতী’ দেখিয়ে মা’মলা দায়ের করে ওই মেয়ের মা। ধ’র্ষ’ণের শিকার ওই তরুণী (২০) চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে।

মা’ম’লার বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার মেয়েকে একাধিকবার ধ’র্ষ’ণ করা হয়েছে ফলে ওই মেয়ে অ’ন্তঃসত্ত্বা হয়। এই মামলায় পু’লি’শ আবুল হাছানকে গ্রে’প্তার করে কুমিল্লা জেলহাজতে প্রেরণ করে। গ্রে’প্তারের পর আদালতে অনেকবার জামিন চাওয়া হলেও তিনি জামিন পাননি। জেলে থাকা অবস্থায় গত ১ জুন ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এসে পৌঁছালে তিনি জড়িত নন এমন রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আদালত তাকে মা’মলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেন। ১০ মাস জেল খাটার পর ঈদুল আজহার আগের দিন তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি আসার পর থেকে মানসিকভাবে বি’পর্যস্ত হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি যে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন এবং জনসমক্ষে নিজে ছোট হয়েছেন এমনটি ভেবে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরে। গত শুক্রবার দুপুরে তিনি তার নিজ বাড়িতে স্ট্রো’ক করে মৃ’ত্যুবরণ করেন।

এ বিষয়ে আবুল হাছানের প্রবাসী ছেলে শেখ সোহেল রানা এ প্রতিনিধিকে জানান, ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর এলাকার একটি কুচ’ক্রি মহল আমার বাবাকে একটি মি’থ্যা ধ’র্ষ’ণের মা’মলা দিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস জেল খাটিয়েছে। ডিএনএ রিপোর্টে প্রমাণিত হয় আমার বাবা ধ’র্ষ’ণের সঙ্গে জড়িত নয়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে শুক্রবার আমার বাবা স্ট্রো’ক করে মৃ’ত্যুবরণ করেন। আমি এলাকাবাসী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট আমার বাবার অস্বা’ভাবিক মৃ’ত্যু ও আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করায় বিচার দাবি করছি।

এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রকৃত আসামিদের বিচার দাবি করে মাধবপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী আনোয়ার হোসেন জানান, এই বিষয়টি আমরা আবুল হাছানের জানাজায় গিয়ে জানতে পেরেছি। এর আগে ওই মেয়ের পরিবার ও আবুল হাছানের পরিবার কেউ জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানায়নি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ অসুস্থ থাকায় কথা হয় তার ছেলে ফাহিম আহমেদ কাজলের সঙ্গে। তিনি জানান,  আমরা কলেজ পাড়া এলাকার অনেকের সঙ্গেই কথা বলে শুনেছি তিনি নি’র্দো’ষ।

ব্রাহ্মণপাড়া থা’নার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওপেলা রাজু নাহা জানান, বিষয়টি পুরোনো, আমি এসেছি নতুন। এমন কোনো ঘটনার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

শনিবার বাদ আসর মাধবপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে আবুল হাছানকে তার পারিবারিক কবরস্থা’নে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মিয়া মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামসুল আলম, জাহের মেম্বার, মানিক পু’লি’শ, খোরশেদ আলমসহ এলাকার মুসল্লিরা।

আরও পড়ুন