শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকাসহ আটক হওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে রিমান্ডে নিয়ে গেলে সেখানে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেন তিনি।

পরে ১৯ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবুল মনছুর সিদ্দিকীর আদালতে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালত ও দুদক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১ জুলাই সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের তল্লাশি গেট থেকে প্রবেশের সময় কর্তৃপক্ষ সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের কাছে টাকা পাওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজকে জানান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ততক্ষণে সার্ভেয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় তাকে আটকাতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

পরে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ঘুষের ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকাসহ আতিকুর রহমানকে আটক করা হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টাকার উৎস সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

একই দিন বিকেলে আতিকুর রহমানকে আরেকটি উড়োজাহাজে করে পুনরায় কক্সবাজারে ফেরত এনে জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানেও তিনি টাকার উৎস সম্পর্কে সদুত্তর দিতে না পারায় ১ জুলাই রাতে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। পরের দিন ২ জুলাই আতিকুরকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কক্সবাজার আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতের বিচারক আতিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরে ৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে মামলা করে দুদক। দুদক কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে হস্তান্তর, স্থানান্তরের চেষ্টা করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২), ৪(৩) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করেন।

একই সময় সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আবেদন শুনানি শেষে আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ৫ দিনের রিমান্ড কার্যকর করতে সোমবার ১৮ জুলাই দুপুর ১টার দিকে আতিকুর রহমানকে জেলা কারাগার থেকে বের করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয় দুদক দল। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার ১৯ জুলাই আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘুষের ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকার উৎস বের করার চেষ্টা চালানোর সময় তিনি নিজে টাকাগুলো বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে স্বীকার করেন।

পরে এ বিষয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদানে রাজী হলে মামলার আইও মো. রিয়াজ উদ্দিন আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল আবেদন মঞ্জুর করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকীকে জবানবন্দি গ্রহণের আদেশ দেন।

সার্ভেয়ার আতিকুরের বাড়ি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আবদুর রহমান। তার চাকরিস্থল বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হলেও তিনি সংযুক্তিতে গত দেড় বছর ধরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের ভূমি হুকুম দখল (এলএ) শাখার অধীনে মহেশখালী উপজেলার দায়িত্বে ছিলেন। মহেশখালীতে সরকারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনসহ প্রায় ১৫টি প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন আতিকুর রহমানসহ তিনজন সার্ভেয়ার।

আরও পড়ুন