মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

‘বাচ্চা না নেওয়ায় ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় আমার স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলাটিপে হ’ত্যা করি। স্বজনদের অসুস্থতার খবর দিলেও তারা না আসায় লা’শ পরদিন গভীর রাতে বাসার পাশে অব্যবহৃত টয়লেটের গর্তে বালি চাপা দেই। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে স্ত্রী হ’ত্যার এমন বর্ণনা দেন স্বামী আব্দুল হামিদ বাবুল। গত সোমবার বিকেলে সাতকানিয়ায় অব্যবহৃত টয়লেটের ট্যাঙ্ক থেকে বালি চাপা দেয়া অবস্থায় গৃহবধূর অর্ধ গলিত লা’শ উদ্ধারের ঘটনায় আটক হন ঘা’তক স্বামী বাবুল।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মুহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুল হামিদ বাবুলের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ও পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ উপজেলার কেঁওচিয়ার নয়াপাড়া ৯নং ওয়ার্ডের নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে সামশুন্নাহারের (২৫) লা’শ উদ্ধার করে।

সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, নি’হতের পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে কেঁওচিয়া নয়াপাড়া ৯ ওয়ার্ডের নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসার পার্শ্ববর্তী অব্যবহৃত একটি টয়লেটের ট্যাঙ্ক থেকে এক নারীর অর্ধগলিত লা’শ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই কক্সবাজার জেলার চৌফলদন্ডী ঘোনার পাড়ার মৃত সৈয়দ করিমের পুত্র সৈয়দুল হক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আটক স্বামী বাবুলকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজ থেকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

সূত্রে জানায়, দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের জের গত ১০ বছর আগে শামসুন্নাহারকে বিয়ে করেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বাবুল। বিয়ের পর থেকেই বাবুল শামসুন্নাহারকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। বাচ্চা না নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়।

সর্বশেষ সাতকানিয়ার কেওচিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকাকালে গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১০ টায় দুই জনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। পরে শামসুন্নাহার ঘুমিয়ে গেলেও জেগে থাকেন বাবুল। রাত আনুমানিক দুইটায় বাবুল ঘু’মন্ত অবস্থায় শামসুন্নাহারকে গ’লা টিপে ধরলে তিনি মা’রা যান। পরদিন সকালে শামসুন্নাহারের বোনকে ফোন করে বাবুল জানান, শামসুন্নাহার অসুস্থ তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, তারা যেন দেখতে আসেন। কিন্ত সারাদিনে কেউ না আসায় রাতে অব্যবহৃত টয়লেটের ট্যাঙ্কে শামসুন্নাহারের লা’শ ঢুকিয়ে বালি চাপা দেয়া হয়।

পরে সামসুন্নাহারের স্বজনরা বাসায় আসেন। কাউকে না পেয়ে বাবুলকে ফোন করলে তিনি এলোমেলো কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্বজনরা কেরানিহাট থেকে কৌশলে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শামসুন্নাহারকে হ’ত্যা করে লা’শ ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন বাবুল।

আরও পড়ুন