শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

জয়পুরহাটে অবৈধভাবে কিডনি কেনা-বেচা চক্রের ৩ দালালকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা এ তথ্য জানান।

মাসুম ভুঞা জানান, প্রাথমিক অবস্থায় ভুক্তোভোগীদের ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার বা সুদ দেয় দালালরা। কিছুদিন পরে পরিকল্পনা মোতাবেক টাকা ফেরত চায় তারা। এরপর টাকা ফেরত দিতে না পারলে কিডনি বিক্রয়ের জন্য এই বলে প্রলুব্ধ করে যে, পাওনা টাকা দিতে হবে না। উল্টো পাওয়া যাবে লাখ টাকা।

পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কতিপয় অসাধু ডাক্তারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দিয়ে তাদের কিডনি অপসারণ করায়। পরে নামমাত্র চিকিৎসা শেষে তাদের হাতে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা দিয়ে সারা জীবনের মতো অঙ্গহানি করে দেশে পাঠিয়ে দেয়। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা পরবর্তীতে দালালে পরিণত হয় এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার নিরীহ গরীব লোকজনদের কিডনি বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়।

ডিবি পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এ চক্রের অন্যতম সদস্য কালাই উপজেলার নজরুল ইসলামের ছেলে ফুল মিয়া, লক্ষিচাপর গ্রামের আ. কাদেরের ছেলে জুয়েল রানা, ছত্রগ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে ফিরোজ হোসেনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, আসামিরা কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের রায়হান মণ্ডল ও তার স্ত্রী মোছা. মোসলেমা বেগমকে ফুসলিয়ে কিডনি বিক্রির জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ গোপনে সংবাদ পেয়ে জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের পুনট বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃত দালালদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, ফারজানা বেগমসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন