শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

বিভিন্ন খাতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। তবে সে অনুযায়ী আয় হচ্ছে না। সঞ্চয়পত্র থেকেও আগের মতো ঋণ নিচ্ছে না সরকার। এতে করে অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে নিট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। আগের অর্থবছর যেখানে নিয়েছিল ২৬ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এর মানে আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি নেওয়া হয়েছে ৪৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা বা ১৭৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ৭৬ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা করা হয়।

শেষ পর্যন্ত আর ওই পরিমাণ ঋণ দরকার হয়নি। তবে যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার, তার বড় অংশ নেওয়া হয়েছে শেষ সময়ে। এর আগে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ঋণের রেকর্ড ছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরে। ওই অর্থবছর সরকার ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ঋণ নেয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মে পর্যন্ত ১১ মাসে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। আর শেষ মাসে নেওয়া হয়েছে ৪০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। এই ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৩১ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা বেড়েছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৪১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বেড়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয় অনেক বাড়লেও আয় সেভাবে বাড়েনি। আবার সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ঋণ এসেছে। গত অর্থবছর সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের। গত মে পর্যন্ত ১১ মাসে এসেছে ১৮ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৬২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা।

সূত্র: সমকাল।

আরও পড়ুন