সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

রাত তখন পৌনে ১২টা। এস আর সমাজ কল্যাণ সংস্থার অক্সিজেন ব্যাংকের হট নম্বরে অচেনা নম্বর থেকে কাঁদো কাঁদো গলায় ফোন— “বাবার খুব শ্বা’সক’ষ্ট হচ্ছে। অক্সিজেন দরকার। না হলে বাঁচানো যাবে না। ‘এসআর ক‌রোনা অক্সি‌জেন ব্যাংক’ আশ্বাস দিলেন-‘কাঁদবেন না। ঠিকানা দিন।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই পিপিই কিট পরে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাইকে করোনা আক্রা’ন্ত রোগীর বাড়ি পৌঁছে গেলেন এসআর স্বেচ্ছাসেবক। ইতোপূর্বে মহামারী করোনাকালীন সময়ে কর্মহীন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে এসআর সংস্থার সংগঠক ও কর্মীরা খাবার পৌঁছে দিয়েছেন যা এখনো চলছে।

করোনার রূপ বদলে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট হয়ে মহামারী যখন অতিমারী, মৃ’ত্যুর মিছিলে তখন লাশ আর লা’শ। রোগীর জীবনবায়ূ প্রবাহে সংকট দেখা দেয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের। এসআর সংস্থা দুদিনের মধ্যেই গড়ে তুলেন ‘এসআর ক‌রোনা অক্সি‌জেন ব্যাংক’। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারপর থেকে খাবার সাহায্যের পাশাপাশি অক্সি‌জেন সাহায্য। ফোন পেলেই সিলিন্ডার নিয়ে রোগী‌র বা‌ড়িতে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিঃস্বার্থ নিবেদিতপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালিত সালাহউদ্দিন রিপন বরিশাল সদর এলাকার মানুষদের নানাভাবে সাহায্য, চিকিৎসা ও সেবা করতে, স্বাবলম্বী করতে অন্তঃপ্রাণ। করোনা শুরুর সাথে সাথে তাঁর সেবা সংস্থাকে সংকট থেকে বেঁচে থাকার তাগিদে সর্বাত্ম’ক কাজে লাগান তিনি।

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হাসপাতালগুলো হিমশিম অবস্থায়, শয্যা সংকট। বাড়িতে হোম আইসোলেশনে থেকে রোগীদের অক্সিজেন পাওয়া না গেলে হাসপাতালে রোগীর পরিবর্তে লাশ পৌছে। এমন দুঃসময়ে আর্ত পীড়িত মানুষের জীবন বাঁচাতে যে মানুষটি অক্সিজেনতুল্য আমাদের প্রতিনিধি সেই সালাহউদ্দিন রিপন এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান ‘কথা পরে হবে। কাজ করি আসুন। বেঁচে থাকলে কথা বলা যাবে।’

উল্লেখ্য, করোনায় কাজ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে এসআর সংস্থার দু’জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন কয়েকজন।

এলাকার জনগণের কাছে সাহায্য সহযোগিতার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান- আরো দু একটি সংস্থাকে দু একবার খাবার ওষুধ সাহায্য করতে দেখা গেলেও এলাকাবাসী সালাহউদ্দিন রিপনের এসআর সংস্থাকে বারবার পেয়েছেন বলে জানান। তাদের ভাষায় সালাহউদ্দিন রিপন এই এলাকার মানুষের জন্য অক্সিজেনস্বরূপ।

আরও পড়ুন