শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

নাটোরের হরিশপুরে রান্না করার সময় তরকারীতে তেল বেশি দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী মুক্তি বেগমােকে (৩০) কু’পিয়ে হাতের সাতটি আ’ঙ্গুল কে’টে দিয়েছে পা’ষন্ড স্বামী আব্দুল হাই। আহত মুক্তি বেগমকে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার দুপুর ১ টায় সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামে।

গ্রামবাসীরা জানান, ১৩ বছর পূর্বে ঐ গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে আব্দুল হাই পূর্বের তিনটি বিয়ের কথা গোপন রেখে সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামের মৃ’ত জয়নাল আবেদিনের মেয়ে মুক্তি বেগমকে বিয়ে করে। তাদের ঘরে বৃষ্টি (১১) ও স্বাধীন (৮) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে আব্দুল হাই স্ত্রী মুক্তি বেগমকে অমা’নুষিক অ’ত্যাচার নি’র্যাতন চালিয়ে আসছিল। তারপর সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি মুখ বুঝে সহ্য করে আসছিলেন।

রবিবার দুপুর ১ টায় তরকারী রান্না করার সময় তেল বেশি দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই ক্ষি’প্ত হয়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী মুক্তি বেগমকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে দুই হাতের সাতটি আ’ঙ্গুল কে’টে দেয়। মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে র’ক্তা’ক্ত জ’খম করে। স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রেজা উন নবী জানান, তার হাতের আ’ঙ্গুলের অবস্থা খুবই খারাপ। একটা হাত ভেঙ্গে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করার না হলে আ’ঙ্গুল গুলো হারাতে হবে।

মুক্তি বেগম জানান, দুপুরে তরকারীতে বেশি তেল দিয়েছি বলে স্বামী মা’রপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে হাসুয়া দিয়ে আমার গলাকাটার চেষ্টা করলে আমি হাত দিয়ে বাঁধা দেই। তারপরও এলোপাথাড়ি কো’পাতে থাকে। আমার মুখে হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে। আমি দৌড়ে না পালালে আমাকে মেরেই ফেলতো। আমি পাষন্ডের বিচার চাই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ১১ বছরের কন্যা বৃষ্টি বলেন, আমি বাবার পা ধরে বলেছি, আব্বা মাকে ছেড়ে দাও। মরে যাবে। তবুও তিনি ছাড়েননি।

এদিকে পৌশাচিক কায়দায় স্ত্রীকে হ’ত্যাচেষ্টার সাথে জড়িত পা’ষন্ড স্বামী আব্দুল হাই এর দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

গ্রামবাসীরা জানান, আব্দুল হাই ইতিপূর্বে আরোও তিনটি বিয়ে করে। সে সব স্ত্রীরা অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে তাকে ছেড়ে চলে যায়। এই স্ত্রীও চলে গিয়েছিল বাপের বাড়ি। ঈদের আগে আব্দুল হাইয়ের অনুরোধে স্থানীয় কিছু গন্যমান্য ব্যক্তি তাকে স্বামীর বাসায় ফিরিয়ে আনেন।

নাটোর থানার ওসি নাসিম আহমেদ জানান, ঘটনাটি জানার পর পরই মুক্তি বেগমের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুক্তির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত আব্দুল হাইকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।

আরও পড়ুন