বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১১:০৭ অপরাহ্ন

এবার নাটোরের হরিশপুরে রান্না করার সময় তরকারিতে তেল বেশি দেওয়ায় কু’পিয়ে স্ত্রী’র দুই হাতের সাত আঙুল কে’টে ফেলার ঘটনায় স্বামী আব্দুল হাই (৪৫) ও তার সহযোগী মো. রাব্বি মিয়াকে (২০) গ্রে’ফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আজ বুধবার ২৭ জুলাই ভোরে অভিযান চালিয়ে নাটোরের হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকা তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৫। গ্রেফতার আব্দুল হাই নাটোরের বড় হরিশপুর এলাকার মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে ও মো. রাব্বি মিয়া একই এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে।

জানা যায়, গত রবিবার ২৪ জুলাই নাটোরের হরিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামে রান্না করার সময় তরকারিতে তেল বেশি দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কু’পিয়ে স্ত্রী মুক্তি বেগমের (৩০) দুই হাতের সাতটি আ’ঙুল কে’টে দেন স্বামী আব্দুল হাই। পরে আহত মুক্তি বেগমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৫।

গ্রেফতারের পর র‌্যাব-৫ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে র‌্যাবের একটি দল নাটোরের হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আব্দুল হাই ও তার মামাতো ভাই মো. রাব্বি মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।

সূত্র জানায়, নাটোরের বড় হরিশপুর এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে আব্দুল হাই আগের তিনটি বিয়ের কথা গো’পন রেখে সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদিনের মেয়ে মুক্তিকে বিয়ে করেন। ১৩ বছরের সংসারে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই স্ত্রী মুক্তি বেগমের ওপর নি’র্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তারপরও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি তা সহ্য করে আসছিলেন।

গত রবিবার দুপুরে তরকারি রান্না করার সময় তেল বেশি দেওয়ায় আব্দুল হাই ক্ষি’প্ত হয়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী’কে এ’লোপা’তাড়ি কু’পিয়ে দুই হাতের সাত আ’ঙুল কে’টে দেন। মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কু’পিয়ে র’ক্তাক্ত জ’খম করেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজা উন নবী বলেন, তার হাতের আ’ঙুলের অবস্থা খুবই খা’রাপ। সাতটি আ’ঙুল কর্তনের পাশাপাশি একটি ‘হাত ভে’ঙেও গেছে। ভুক্তভোগী মুক্তি বেগম বলেন, ওইদিন দুপুরে তরকারিতে বেশি তেল দিয়েছি বলে মা’রধর করা শুরু করে। এক পর্যায়ে হাসুয়া দিয়ে আমার গ’লাকা’টার চে’ষ্টা করলে আমি হাত দিয়ে বাঁধা দিই। তারপরও এলোপাতাড়ি কো’পাতে থাকে। আমার মুখে হাসুয়া দিয়ে আ’ঘাত করে। আমি দৌড়ে না পালালে আমাকে মে’রেই ফেলতো। আমি এই পাষ’ণ্ডের বিচার চাই।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, আব্দুল হাই এর আগে আরও তিনটি বিয়ে করেন। সেসব স্ত্রীরা অ’ত্যাচার নি’র্যাতন সইতে না পেরে তাকে ছেড়ে চলে যান। বর্তমান স্ত্রীও বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। ঈদের আগে আব্দুল হাইয়ের অনুরোধে স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি তাকে স্বামীর বাসায় ফিরিয়ে আনেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেফতার আসামিরা মুক্তি বেগমকে প্রতিনিয়ত শা’রীরিক ও মা’নসিক নি’র্যাতনসহ ওইদিন (২৪ জুলাই) হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কু’পিয়ে জ’খমের কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাদের নাটোর সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন