সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ১২:২৬ অপরাহ্ন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এক মুক্তিযোদ্ধাকে মা’রধর এবং নগদ অর্থসহ স্বর্ণাল’ঙ্কার লুটের অভিযোগে তিন এসআইসহ সাত পু’লিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মা’মলা করা হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী সালমা আক্তার বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ২নং আমলি আদালতে মা’মলাটি করেন।

মা’মলায় ব্রাহ্মণপাড়া থা’নার এসআই সাইফুল ইসলাম, জীবন কৃষ্ণ মজুমদার, কামাল হোসেন, এএসআই কৃষ্ণ সরকার, মতিউর রহমান, পু’লিশ সদস্য নুরুজ্জামান ও জামাল হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসা’মি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাদীর আই’নজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালতের বিচারক বেগম মিথিলা জাহান নিপা মা’মলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা জেলা পু’লিশ সুপার ফারুক আহমেদকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মা’মলার বাদী সালমা আক্তার জানান, গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় তার ভাই লোকমান হোসেনের খোঁজে ব্রাহ্মণপাড়া থা’নার এসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে একদল পু’লিশ তাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় পরিচয় জানতে চাইলে তারা সবাই ব্রাহ্মণপাড়া থা’নার পু’লিশ সদস্য দাবি করেন।

পরে তারা ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রুমে তল্লাশি শুরু করেন। কোনো মা’মলায় ওয়ারেন্টের আদেশ আছে কিনা জানতে চাইলে কৃষ্ণ সরকার গা’লাগাল করে লাঠি দিয়ে শোকেসের গ্লাস ভে’ঙে ফেলে। আলমারির চাবি নিয়ে তল্লা’শির নামে ড্রয়ারে থাকা ব্যবসার জন্য রক্ষিত দুই লাখ টাকা এবং দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি চেইন ও তিনটি আংটিসহ চার ভরি স্বর্ণা’লঙ্কা’র এবং মোবাইল ফোন ছি’নিয়ে নিয়ে যায়।

সালমা আক্তার আরও বলেন, আমার চিৎকার শুনে পাশের বাড়িতে থাকা মুক্তিযোদ্ধা বাবা জামাল আহাম্মদ খান ও স্বামী আবুল কালাম আজাদ এগিয়ে এলে পু’লিশ সদস্যরা স্বামী আবুল কালাম আজাদকে দোকানের সামনে থেকে টেনেহিঁচড়ে আ’টকের চেষ্টা করে। এ সময় বাবা মুক্তিযোদ্ধা জামাল আহাম্মদ খান পরিচয় দিয়ে বিনা ওয়ারে’ন্টে গ্রে’ফতারের আপত্তি জানান।

এএসআই কৃষ্ণ সরকার তার বাবার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘা’ত করে। আঘা’তের ফলে মুক্তিযোদ্ধা জামাল আহাম্মদ খান র’ক্তাক্ত জখম হয়।

এ ছাড়া পু’লিশের অন্য সদস্যরা আমার বাবা ও স্বামীকে এলোপাতাড়ি পি’টিয়ে আহত করে। উপস্থিত লোকজন চিৎকার করলে গু’লির হুমকি দিয়ে পু’লিশ সদস্যরা তার স্বামীকে আ’টক করে নিয়ে যায়। পু’লিশের হামলায় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থা’নার ওসি অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, সালমা আক্তারের ভাই লোকমান হোসেন ডাকা’তিসহ ৯ মা’মলার আসামি। পলা’তক থাকায় পু’লিশ সাদা পোশাকে গ্রে’ফতারের জন্য সালমা আক্তারের বাড়িতে গেলে তারা পু’লিশের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় পু’লিশের কাজে বাধার অভিযোগে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞা’ত আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে মা’মলা করায় তারা আদালতে অভিযোগ করেছেন, যা সম্পন্ন মি’থ্যা।

কুমিল্লা জেলা পু’লিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক অভিযোগটি তদ’ন্ত করা হবে। – যুগান্তর

আরও পড়ুন