বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

বাড়ির পাশেই ফুফুর বাড়ি। সেই সুবাদে প্রায়ই ফুফুর বাড়িতে খেলতে যেত ছয় বছরের শিশু জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত। বুধবার বিকেলেও খেলতে যায় শিশুটি। আর এ যাওয়াই কাল হলো তার।

আপন ভাতিজিকে মাংস খাওয়ানোর কথা বলে রান্নাঘরে নিয়ে যান ফুফু জহুরা খাতুন। এরপর বটি দিয়ে এক কো’পে জান্নাতের গলা কা’টেন তিনি। প্রাণে মে’রেই ক্ষা’ন্ত হননি, লা’শটি ব্যাগে ভরে ফে’লে দেন ধানক্ষেতে।

ঘটনাটি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার। আ’টকের পর পু’লিশের কাছে আপন ভাতিজিকে হ’ত্যার কথা স্বীকার করেন ঘা’তক জহুরা খাতুন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুষ্টিয়ার এসপি খাইরুল আলম।

নি’হত জান্নাত মিরপুর উপজেলার মশান শাহাপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। অভিযু’ক্ত জহুরা একই গ্রামের আনিরুল ইসলামের স্ত্রী ও জাহিদুল ইসলামের আপন বোন।

এসপি খাইরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে হ’ত্যার দায় স্বীকার করেছেন জহুরা খাতুন। হত্যাকা’ণ্ডে ব্যবহৃত বটিও উ’দ্ধার করা হয়েছে।

এসপি বলেন, বুধবার বিকেলে খেলাধুলা করতে বাড়ির পাশে ফুফু জহুরার বাড়ি যায় শিশু জান্নাত। এরপর মাংস খাওয়ানোর কথা বলে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে যান জহুরা। এ সময় জান্নাতকে তিনি বলেন- ‘মাংস রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে, তুমি রান্নাঘরে বসো, আমি প্লেট নিয়ে আসি।’

তখন রান্নাঘরের চুলার পাশে বসে ছিল জান্নাত। কিছুক্ষণ পর বটি নিয়ে এসে এক কো’পে গলা কেটে জান্নাতকে হ’ত্যা করেন জহুর। এরপর বাজারের ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে লা’শ ফেলে আসেন।

তিনি আরো বলেন, রাতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মিরপুর থা’না পু’লিশ, ডিবি পু’লিশসহ আমরা ত’দন্ত শুরু করি। শিশুটির লা’শ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আ’টক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর থা’নায় একটি হ’ত্যা মা’মলা করেন শিশুটির বাবা।

পারিবারিক বিরো’ধের জেরে কয়েকদিন আগে জহুরাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন জান্নাতের মা আঁখি বেগম। এতে ক্ষু’ব্ধ হন তিনি। এরই জেরে ভাতিজিকে হ’ত্যা করেন জহুরা।

আরও পড়ুন