সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড়ে বো’রখা পড়ে শ্রেনীকক্ষে আসায় ছাত্রীদের সাথে কথা না বলে পিছনের বেঞ্চে পৃথক করে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। বোরখা পড়ে আসা ছাত্রীদের মুখ চিনতে পারছেনা বলে অ’ভিযোগ শিক্ষকের। এতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিবাবক ও স্থানীয়রা ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন।

গত ২৫ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া স্কুল এন্ড কলেজে নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণীর তিনজন ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের বি’রুদ্ধে প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অ’ভিযোগ করেছেন। অ’ভিযোগের পর গতকাল রাতে অ’ভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আলমের বিচার দাবী করে মাইকিং করেন এলাকাবাসী।আজ জুম্মার নামাজের পর আশরাফুল ইসলামের বি’রুদ্ধে আন্দোলনে নামার কথাও রয়েছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রীদের অভিবাবকরা স্কুলে আসলে হট্টগোল সৃস্টি হয়। এ সময় খবর পেয়ে বিদ্যালয়টির সভাপতি ও সাকোয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম স্কুলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম নবম ও দশম শ্রেনীর ছাত্রীদের ক্লাস নেন। ক্লাস চলাকালিন সময়ে আশরাফুল আলম বোরখা পরিহিত ছাত্রীদের সাথে অসৌ’জন্য মূলক আ’চরণ করেন। এসময় বোরখার সাথে হিজাব পরি’ধান করা ছাত্রীদের বলেন, বোরখা পড়লে ক্লাসে আসার দরকার নেই।

আমি যাকে চিনিনা যার মুখ দেখতে পারি না, তাদের ক্লাস আমি নেই না। এসব মেয়েরা আমার ছাত্রী হতে পারে না। আমার ক্লাসের ছাত্রী হতে হলে চোখ মুখ খোলা রাখতে হবে। এক পর্যায়ে বোরখা পরিহিত ছাত্রীদের আলাদাভাবে পিছনের বেঞ্চে বসার নির্দেশ দেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বী’কার করে সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম জানান প্রধান শিক্ষক চক্রান্ত করে ছাত্রীদের দিয়ে এমন অভিযোগ করানো হয়েছে। কারন প্রধান শিক্ষক আমার কাছে প্রায় সময় টাকা ও মোবাইল দাবী করেন।

ছাত্রীদের পৃথক করে দেওয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার দিন ক্লাস চলাকালীন সময়ে আমি দশম শ্রেনীতে রসায়ন ক্লাস নিতে গিয়ে দেখলাম তিনজন ছাত্রী একই রকম বোরখার সাথে স্কার্ভ পড়ে পুরোমুখমন্ডল ঢেকে ফেলে শ্রেনীকক্ষে অবস্থান করছেন।

ঠিক তখন আমি বললাম আসলে আমি তো তোমাদের চিনতে পারছিনা । কার কি নামও বলতে পারছিনা? কিভাবে পড়া বুঝিয়ে দিবো। এ সময় একজন ক্লাসের দিকে মনোযোগ না দিয়ে পিছনে তাকিয়েছিল এজন্য ওই ছাত্রীকে মনোযোগ আকর্ষনের জন্য আমি সামনে আসতে বলেছি।

তাদের সাথে কোন অসৌ’জন্য মূলক আ’চরন করিনি। আমি বাম রাজনীতির সাথে জ’ড়িত এজন্য আক্রো’শমূলক রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যও এই চ’ক্রান্ত হতে পারে।

সাকোয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হাসান সুজা জানান, দশম শ্রেণীর তিনজন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আগামী রবিবার এ বিষয়ে গভর্নিং কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে সেখানেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমার সাথে বিদ্যালয়টির কোন শিক্ষকের সাথে কোন বি’রোধ নেই। ছাত্রীরা নিজেই আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনার সাথে যদি আশরাফুল আলমের কোন রকম সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে চাকুরীবিধী অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন