সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

হতদরিদ্র আব্দুল হামিদ একটি মুদি দোকানে সামান্য বেতনে চাকরি করেন। মাসে যা পান তা দিয়ে সংসার চালানো ক’ষ্টকর। বাবার সংসারে কিছুটা হাল ধরেন চট্টগ্রাম এমইএস কলেজের অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিয়াউল হক সজিব। পড়াশোনার পাশাপাশি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করে বাবাকে সহযোগিতা করতেন তিনি। কোনোমতে পরিবারের ছয় সদস্যের সংসার চলে যাচ্ছে।

কিন্তু ভাগ্য তাদের সহায় হলো না। শুক্রবার সকালে ওই কোচিং সেন্টারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিরসরাইয়ের খৈয়াছরা ঝরনায় ঘুরতে যান সজিব। কে জানতো লাশ হয়ে ফিরবেন।

সজিব হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়ার আবদুল হামিদের ছেলে। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সে সবার বড়।

সজিবের আত্মীয় রফিকুল ইসলাম বলেন, খুব ভালো ছেলে সজিব। হামিদ ভাইয়ের বড় ছেলে সে। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের সহযোগিতায় কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতো সে।

তিনি ছাড়াও উপজেলার আজিম সাব রেজিস্টার বাড়ির হাজী মো. ইউসুফের ছেলে মাইক্রোচালক গোলাম মোস্তফা নিরু (২৬), চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মো. ইলিয়াছ ভুট্টোর ছেলে মোহাম্মদ হাসান (১৭), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজ মেম্বার বাড়ির জানে আলমের ছেলে ওয়াহিদুল আলম জিসান (২৩),

মজিদ আব্বাস চৌধুরী বাড়ির বাদশা চৌধুরীর ছেলে শিক্ষক রিদুয়ান চৌধুরী (২২), পারভেজের ছেলে সাগর (১৭) ও একই এলাকার আবদুল ওয়াদুদ মাস্টার বাড়ির আবদুল মাবুদের ছেলে ইকবাল হোসেন মারুফ (১৭), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাফফর আহমেদের ছেলে মোসহাব আহমেদ হিসাম (১৬), আব্দুল আজিজ বাড়ির মৃত পারভেজের ছেলে তাসমির হাসান (১৭), মনসুর আলমের ছেলে মো. মাহিম (১৭), ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবু মুসা খানের বাড়ির মোতাহের হোসেনের ছেলে মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯) নিহত হয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের ঝরনা এলাকার রেলক্রসিংয়ে মর্মান্তিক দু’র্ঘটনায় ১১জন নিহত। এসময় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন