মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

ইরানে স্বামীকে খু’ন করার অপরাধে একই দিনে তিন জন নারীকে ফাঁ’সি দেয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৭ জুলাই)ইরানের তিনটি পৃথক কারাগারে এই ফা’সির রা’য় কার্যকর হয়েছে। নরওয়ে ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) এর বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ জুলাই) তিন নারীকে মৃ’ত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা জানায় আইএইচআর। ইরানে নারীদের ফাঁ’সি দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এতে উদ্বেগ জানিয়েছেন আইএইচআর।ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, গত ২৭ জুলাই ওই তিন নারীকে মৃ’ত্যুদণ্ড দেওয়ার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ নারীকে মৃ’ত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

নারীদের ক্ষেত্রে কঠোরতম আইন জারি করা দেশটিতে। যার ফলে কোনো নারী চাইলেই সংসার জীবন থেকে আলাদা হতে পারেন না খুব সহজে। এর আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সানানদাজ শহরের কারাগারে সোহেলি আবেদি নামের এক নারীকে ফাঁ’সি দেওয়া হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সোহেলির বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের ১০ বছর পর তিনি স্বামীকে হ’ত্যা করেন।

২০১৫ সালে এ ঘটনায় তিনি দো’ষী সাব্যস্ত হন। অন্যদিকে, পাঁচ বছর আগে স্বামীকে হ’ত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ফারানাক বেহেস্তি নামের আরেক নারী। তাকে উর্মিয়া শহরের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের একটি কারাগারে ফাঁ’সি দেওয়া হয়।

মূলত ইরানের বর্তমান প্রচলিত আইন অনুসারে চাইলেই নারীরা দেশটিতে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন না। এমনকি নি’র্যাতনের শিকার হলেও নারীরা বিচ্ছেদ চাইতে পারেন না। গত বছর অক্টোবরে আইএইচআরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬৪ নারীকে ফাঁ’সি দেওয়া হয়েছে।

আইএইচআরের হিসেবে এ বছরই ইরানে কমপক্ষে ৩০৬ জনকে মৃ’ত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।সাবেক বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইরানে মৃ’ত্যুদণ্ড বাড়ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

আরও পড়ুন