মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

বিশ্বের দ্বিতীয় এবং দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারনে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১৭০০ মেঃ টন দানাদার ইউরিয়া সার বাৎসরিক ৫ লক্ষ ৬১ হাজার মেঃ টন এবং দৈনিক ১০৭৮ মেঃ টন এ্যামোনিয়া বাৎসরিক ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৭’শ ৪০ মেঃ টন উৎপাদনে সক্ষম।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ কারখানা উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ দেশের ১৯টি জেলায় কৃষকদের মাঝে স্বল্প সময়ে সারের চাহিদা পূরণ করে আসছে। বর্তমানে কারখানা বন্ধ থাকার ফলে আসন্ন রবি এর পর ইরি-বোরো মৌসুমে দেশের ১৯টি জেলায় সারের তীব্র সংকটের আশঙ্কা করছেন ডিলার এবং কৃষকরা।

স্থানীয় ও কারখানা সূত্র জানায়, যমুনা সারকারখানা বাণিজ্যিক ভাবে ১৯৯২ সালের ১লা জুলাই দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করে। এ সারকারখানাটি ৩৭০ পিএসআই চাপে ৪৬ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন হয়। গ্যাস সরবরাহ ২৫০ পিএসআই থেকে ১৫০ পিএসআইএ নেমে এলে সার উৎপাদন কমে আসলেও কারখানা চালু ছিল।

গত ২০২১ সালের শেষ দিকে ২০০ কোটি টাকায় টানা দু’মাস যমুনা কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে ওভারহোলিংএর কাজ করা হয়। ওভার হোলিং শেষে সার উৎপাদনে যেতে না যেতেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় চলতি বছরের ২৭ মার্চ ভোরে সার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। ১৬ এপ্রিল মেরামত শেষে কারখানা চালু হলেও গ্যাস সংকটের কারনে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

আবার গত ১লা মে সার উৎপাদন শুরু হলেও ৭মে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আবারও কারখানার উৎপাদন বন্ধ করা হয়। মেরামত শেষে ১০মে কারখানা চালু করলেও গ্যাস সংকটের কারনে আবারও সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আবার প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকার কারনে গত ২১ জুন সার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়। তারপর থেকে টানা ৪০দিন যাবৎ কারখানা বন্ধ থাকায় সরকারকে ইতিমধ্যে ১শ’ ২০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে বলে জানাগেছে।

জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ ১৯টি জেলার প্রায় ২ হাজার সার ডিলার সার সরবরাহ করে থাকে। তারা বলছেন, সামনে বোরো মৌসুম। এ মৌসুমে সার উৎপাদন না হলে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরিসহ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।

এদিকে, আমন মৌসুমে সার সংকট কাটাতে সম্ভাব্য করণীয় বিষয়ে গত ২৬ জুলাই উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর যমুনা সারকারখানার ষ্টার্ট আপ ফিড়ার বিস্ফোরিত হয়ে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকায় ক্রয় করে ষ্টার্ট আপ ফিডারটি সংযোজনের কাজ শেষ করে দীর্ঘ ৩৭৮ দিন কারখানা বন্ধ থাকার পর কারখানা চালু হয়। কারখানায় সার উৎপাদন শুরু হয় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর সকালে।

তারাকান্দি ট্রাক ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম মানিক বলেন, আসন্ন মৌসুমে সার সংকট কাটাতে খুব দ্রুত কারখানাটি চালু করা না গেলে স্থানীয় কৃষকসহ দেশের বৃহত্তম এ প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

কারখানার মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হাকিম (অপারেশন) বলেন, গ্যাস সংকটের কারনে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গ্যাস পাওয়ার সাথে সাথে কারখানা চালু করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন