শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

বিউটি পার্লারের আড়ালে পু’রুষদের অ’স্ত্রোপ’চার করে আসছিল একটি চ’ক্র। দীর্ঘ পাঁচ বছরে শতাধিক রূপা’ন্তরকা’মী পুরু’ষের অ’স্ত্রোপ’চার করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানে পুরু’ষদের লি’ঙ্গ রূপান্তর, ব্রে’স্ট ই’মপ্লা’ন্ট ও উচ্চ’মাত্রার হর’মোন ইন’জেকশন প্রয়োগ করে নারী-পুরুষের কণ্ঠসহ অন্যান্য অ’বয়ব বদলে দেওয়ার মতো ক’র্মকাণ্ড চলত।

চক্রের মূল হোতা হাদিউজ্জামান। একসময় খুলনার এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে মাহি হাসান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় স্ত্রীর নামে ‘লেজার বিউটি পারলার’ খুলে শুরু করেন লি’ঙ্গ রূপান্তরের কারবার। নিজেই সার্জন বনে যান। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, সমাজের একটি অংশ সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বাইরে থাকে। ফলে অপ’রাধী চক্র এরই রূপান্তর’কামীদের ব্যবহার করে মা’দক কারবারসহ নানা ধরনের অপ’কর্ম করায়।

শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চ’ক্রের মূল হোতা হাদিউজ্জামান রহমান, তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তারসহ দুই সহযোগীকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ। । গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রধান সার্জন পরিচয় দেওয়া হাদিউজ্জামান, তাঁর স্ত্রী ও পারলারের মালিক সোনিয়া আক্তার এবং এই দম্পতির সহযোগী নুর ইসলাম ও জনি আহম্মদ। এ সময় পার্লারের বিশেষ একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে অপারেশনের বিভিন্ন সর’ঞ্জা’ম এবং হরমোন পরিবর্তনের ও’ষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে রূপান্তরকামী পু’রুষদের টার্গেট করে ঘনি’ষ্ঠতা বাড়াত হিজড়াদের ‘গু’রুমা’কেন্দ্রিক চ’ক্রের সদস্যরা।

এরপর ওই পুরুষদের নিজেদের ডেরায় নিয়ে আ’দর-আপ্যা’য়নের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করে দলে রেখে দেওয়া হতো। এরপর তাদের শরীরে বিশেষ হ’রমন প্রবেশ করানো শুরু হতো। একপর্যায়ে পুরুষ থেকে নারীতে রূ’পান্তরের প্র’লোভন দেখানো হতো। বিভিন্ন কৌশলে এই রূপান্ত’রকামী পুরু’ষদের হাদি’উজ্জামানের পার্লারে এনে অপা’রেশন করে কেটে ফেলা হতো পু’রুষা’ঙ্গ। স্ত’ন বৃদ্ধির জন্য শরীরে স্ত্রী হরমোন ইনজে’কশন দেওয়া হতো। রূপান্তরের কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের ওষুধ বিদেশ থেকে আনা হতো।

হাদিউজ্জামানের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা আজিমুল হক বলেন, একসময় খুলনায় এক সার্জনের সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কৌশল রপ্ত করে ফেলেন হাদিউজ্জামান। পরে ঢাকায় এসে নিজেই বনে যান সার্জন। খুলে বসেন লেজার বিউটি পারলার। সেখানে রূপা’ন্তরকারী পুরুষদের অ’স্ত্রোপচার ও লি’ঙ্গ পরিবর্তনের কাজ করা হতো। প্রতিটি সার্জারির আগে হাদিউজ্জামান ১ লাখ করে টাকা নিতেন। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর কোনো সনদ নেই। নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে শতাধিক পুরুষের অ’স্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা করেছেন।

আরও পড়ুন