শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

নাটোরে যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের ৬ মাস পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এক কলেজছাত্র ও শিক্ষিকা। তবে সব নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন তারা। রোববার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে এ ঘটনায় নিয়ে ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বর্তমানে তারা নাটোর শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। দম্পতিরা হলেন, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা বাসিন্দা মামুন হোসেন (২২) ও খাইরুন নাহার (৪০)। মামুন হোসেন নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

জানা গেছে, বিয়ে পর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে মামুন হোসেন স্টক বিজনেস শুরু করেছেন। একই সঙ্গে পাট, ধান, গম, সরিষাসহ অপচনশীল কৃষিপণ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি। অন্যদিকে তার স্ত্রী খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন।

কলেজছাত্র মামুন বলেন, প্রায় সাত মাস আগে আমরা দুজন বিয়ে করেছি। এ বিষয়ে কে কি বলল সেগুলো মাথায় না নিয়ে নিজেদের মতো সংসার গুছিয়ে নিয়েছি। তবে আমি তার কলেজের ছাত্র নই। আমি নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আর আমার স্ত্রী খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। আমাদের বিয়ের সময় সে প্রভাষক ছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন।

মামুন আরও বলেন, “শুরুতে আমাদের পরিবার মেনে নিচ্ছিল না, সম্প্রতি কিছুদিন আগে আমাদের পরিবার থেকে মেনে নেয়। এখন আগের থেকে আমরা অনেকটাই ডিপ্রেশন মুক্ত আছি। আমি যেটা বুঝি বয়সটা ম্যাটার নয়, আমি যদি কারও সঙ্গে কমফোর্ট ফিল করি সেটাই বড় কথা। অনেকে অনেক রকম নেগেটিভ মন্তব্য করতেছে, এটা বিশ্বাস করি মন্তব্য কখনো গন্তব্য ঠেকাতে পারে না। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটুট থাকব।”

তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ সবার কাছে দোয়া চাই। আমরা যে কাজটা করছি দুজন নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে করছি। ফিউচারে যাতে এই বিষয়টা নিয়ে অন্যরকম নেগেটিভ কেউ কিছু না বলতে পারে, সেভাবে যেন থাকতে পারি এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।”

খাইরুন নাহার বলেন, “১১ মাস আগে আমাদের পরিচয় হয়। ৬ মাস আগে বিয়ে করেছি। অনেকেই বিষয়টা পজিটিভলি নিচ্ছে আবার অনেকেই নেগেটিভলি নিচ্ছে। ওদের ফ্যামিলি মেনে নিসে আমাকে, তাদের ফ্যামিলির না মেনে নেয়ার কথা, কারণ উনার ছেলের সঙ্গে আমার এইজ ডিফারেন্স। তারপরেও ওর ২ বোন,বাবা-মা আমাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু আমরা ফ্যামিলিতেই প্রবলেম।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে অনেক নেগেটিভলি বলতেছে, আমার কলিগরা কেউ কেউ ভালো বলতেছে কেউ কেউ খারাপ বলতেছে। যাদের যে মাইন্ড। অনেকের ধারণা ছেলে আমাকে বিয়ে করছে চাকরির লোভে। তোকে ছেড়ে যাবে, এসব নানান কথা বলছে অনেকে। এগুলো শুনলে মাথা এমনিতেই গরম হয়ে যায়, কিছু করার থাকে না। পরেও আলহামদুলিল্লাহ ও আমাকে অনেক ভালো রাখতে পারসে।”

খাইরুন নাহার বলেন, “কে কি বলল সেটা বিষয় না, ও আমাকে অনেক ভালো রাখছে। আমার বিশ্বাস ও আমাকে সারা জীবন ভালো রাখবে। আমাকে কোনও কিছুতে কষ্ট পেতে দেয় না, আরও ও বোঝায়। আমি টিচার হতে পারি, আমি কম বুঝি কিন্তু ও অনেক বুঝে। ও আমাকে বোঝায় মানুষের জন্য আমরা কেন খারাপ থাকবো।”

উল্লেখ্য, গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছা. খাইরুন নাহার। তার রাজশাহীর বাঘায় প্রথম বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহে সংসার বেশি দিন টেকেনি তার। তবে ওই ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২০২১ সালের ২৪ জুন তাদের পরিচয় হয় মামুন হোসেনের সঙ্গে। এরপর থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন তারা। তবে সপ্তাহখানেক আগে তাদের বিয়ের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন