শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

চলন্ত লঞ্চ থেকে একটি শিশু মাঝ নদীতে পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধারের কোন চেষ্টা না করেই লঞ্চটি চলে যায়। অনেক পরে স্থানীয় এক জেলে নদী থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আগুনমুখা নদীতে। বিকাল তিনটে নাগাদ রওনা দিয়ে পটুয়াখালী থেকে ঢাকা যাচ্ছিল জাহিদ-৩ নামের লঞ্চটি।

নদীতে পড়ে যাওয়া ১২ বছরের শিশুটির নাম মোঃ ওসমান গনি, বাড়ি শরিয়তপুর। সে লঞ্চটির রান্নাঘরে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতো।

যাত্রা শুরুর ঘণ্টাখানেক পর লঞ্চটি গলাচিপা উপজেলার কাঁকড়ার চরের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ওসমান গনি লঞ্চের পেছনদিকে গোসল করার সময় হঠাৎ মাঝ নদীতে পড়ে যায়।

ওসমান গনির অভিযোগ, লঞ্চটি তাকে পানি থেকে তোলার জন্য থামেনি এবং তাকে ফেলেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় জাহিদ-৩।

সাধারণত এমন ঘটনা ঘটলে পরিচিতদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার অভিযোগ, ‘আমি ভেসে থাকতে পারছি না। হাবুডুবু খাচ্ছি আর দেখতে পাচ্ছি যে লঞ্চটা চলে যাচ্ছে।’

চার ভাইয়ের মধ্যে সবচাইতে ছোট ওসমান গনি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে। মাসখানেক আগে সে জাহিদ-৩ নামের লঞ্চটিতে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ নেয়। থাকা, খাওয়া, ঘুম সবই লঞ্চের মধ্যেই।

কি সমস্যার কারণে পালিয়ে এসেছে জানতে চাইলে সে বলে, ‘আমার লেখাপড়া করতে ভালো লাগে না।’

কতক্ষণ নদীতে ভেসে ছিল মনে করতে পারেনি ওসমান গনি। তবে সে বলছে, মৃত্যুর সাথে আজ সাক্ষাত হবে এমনটাই মনে হয়েছিল তার। তাকে উদ্ধার করেন নিকটবর্তী একটি মাছধরা নৌকার জেলে গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের চুলারাম গ্রামের মোঃ জুয়েল ইসলাম।

জুয়েল ইসলামের সাথে যখন কথা হয় – তখন তার কণ্ঠস্বরও দুর্বল শোনাচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, স্রোতের বিপরীতে কুড়ি মিনিটের মতো সাঁতার কেটে ওসমান গনিকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নদীতে জাল পেতেছিলাম। সেই জাল তোলার যখন সময় হয়েছে তখন জাল তোলার জন্য টানতেছি। হঠাৎ খুব নিচু কিন্তু মানুষের ডাক শুনতে পেলাম। চারদিকে তাকাই, ডাক শুনি – কিন্তু কাউকে দেখি না।’

‘কিছুক্ষণ পর আবার শুনি কেউ ক্ষীণ স্বরে ডাকতেছে। তখন খুব মনোযোগ দিলাম। দেখি দুরে কালো ফুটবলের মতো একটা মাথা ভেসে আছে। সেদিক থেকেই শব্দটা আসতেছে।’-বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন