শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

ক্যান্টনমেন্ট খালি করে ফেললেও নির্বাচনে সব কেন্দ্রে সেনা মোতায়েন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

তিনি বলেন, একটা রানৈতিক দলের একজন প্রস্তাব দিলেন সব কেন্দ্রে সেনা বাহিনী দেওয়ার জন্য। তখন আমি উনাকে পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম সব কেন্দ্রে দিতে গেলে আপনি কি জানেন যে ৪০ হাজার কেন্দ্র আছে। তো ৪০ হাজার কেন্দ্রে আমরা যদি সেনা দিতে চাই তাহলে কত আর্মি দরকার? আমাদের তো এতো অফিসার এবং আর্মি নাই। তখন আমরা কী করবো? তখন ক্যান্টনমেন্ট খালি করে দিলেও, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী দিলেও তো হবে না।

সোমবার (১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ পর্যালোচনা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর শিগগির একটি কৌশলপত্র প্রস্তুত করা হবে। ওই কৌশলপত্র নিয়ে সবাইকে একমঞ্চে নিয়ে বিশেষ সংলাপে বসবে বলেও জানান এই কমিশনার।

তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে তারাপর্যালোচনা শুরু করে দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ফের গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ জন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা হবে। প্রথম সংলাপে সাড়া না দেওয়া বিএনপিকেও ডাকা হবে।

মো. আলমগীর বলেন, বিশেষ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী। সেখানে সবাই একমঞ্চেই থাকবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রুপ থেকে চার-পাঁচ জন করে অংশ নেবে। সংলাপে কৌশলপত্রটি উপস্থাপন করে অংশীজনের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, বিশেষ সংলাপে আমাদের কৌশলপত্রে উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, সুবিধা-অসুবিধা, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়, লোকবল, চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি থাকবে। যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়েই আলোচনা হবে।

এ নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, সংলাপ থেকে আসা প্রস্তাবে তথ্য ঘাটতি (ইনফরমেশন গ্যাপ) আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কিছু বলা যাবে না। আমরা সব রেকর্ড রেখেছি। এখন পর্যালোচনা করছি। তিন ধরনের সুপারিশ করেছে। কিছু কিছু সুপারিশ আছে সংবিধান ও আইনের মধ্য থেকে করতে হবে। কিছু কিছু সুপারিশ আইনের পরিবর্তন নিয়ে। আর কিছু কিছু আছে ইসির এখতিয়ারের মধ্যে নয়। সেটা নিয়ে কীভাবে কী করবো, তা যখন আলাপ-আলোচনা করবো তখন সিদ্ধান্ত নেবো। তখন হয়তো আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবগুলো পাঠিয়ে দেবো। তবে এখনো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।

তিনি বলেন, আগের কমিশন আগে রোডম্যাপ করে আলোচনা করেছেন। আমরা আলোচনা করে রোডম্যাপ করবো।

মো. আলমগীর বলেন, কেউ কেউ এমন কিছু সুপারিশ করেছেন যে কারিগরিভাবে পরিবর্তন আনা। সেটা হয়তো আমরা করতে পারবো না। একজন বলেছেন অনলাইনে ভোট নেওয়ার জন্য। এটা তো এখনই পারবো না। অর্থনৈতিক দিক থেকে পারবো কি না, এসব আলোচনা করে যেটা বাস্তব, সেটা হয়তো আমরা নেবো। অন্যগুলো হয়তো বাদ রাখতে হবে।

আপনি হয়তো খুব ভালো পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা হয়তো এই মুহূর্তে (বাস্তবায়ন) সম্ভব নয়। যেগুলো সম্ভব সেগুলো হয়তো আমরা নেবো। পরে আবার সংলাপ হবে। এই রোডম্যাপ করার পরে আপনাদের সঙ্গে আবার আসবে বিশেষ আলোচনা। সেই রাউন্ড কিন্তু আমাদের সামনে রয়েছে। সেই রাউন্ডে আসবে যে আপনারা এইটা করতে বলেছিলেন, আমরা তো করতে চাচ্ছি। কিন্তু এগুলোতে এই চ্যালেঞ্জ আছে, এখন বলেন আমরা কী করবো। কীভাবে এই চ্যালেঞ্চ মোকাবিলা করবো।

এক প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, বিএনপিকে আবার অবশ্যই ডাকবো। আমাদের কাছে সবার গুরুত্ব সমান। কেউ ছোট না, কেউ বড় না। যখনই প্রয়োজন হবে ডাকবো। শুধু তাই নয়, যখন কোনো দল আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইবে আমরা বসবো।

নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আমাদের মিডিয়ার (গণমাধ্যমের) সাপোর্টও লাগবে। আপনারা হয়তো সব চাওয়া পূরণ করতে পারবেন না। আমরা যদি ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে কভারেজ চাই, আপনারা হয়তো দিতে পারবেন না। তো এইসব নিয়েই বিশেষ সংলাপে আলোচনা হবে। খসড়াটা নিয়ে শেয়ার করবো যে দেখেন, কোনো সাজেশন আছে কি না। যুক্তিভিত্তিক যদি বলতে পারেন এটা বাদ দিতে হবে। আমরা বাদ দেবো।

আরও পড়ুন