বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:০০ অপরাহ্ন

আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রো’ন হা’মলায় নি’হত হয়েছেন আ’ল-কায়ে’দার শী’র্ষ নেতা আ’য়মান আ’ল-জাওয়া’হিরি। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবু’লে আমেরিকান বি’মান হা’মলায় নিহ’ত হয়েছেন জাওয়া’হিরি। এ খবর টুইট করে জানিয়েছেন আ’রিকার প্রে’সিডেন্ট জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত রোববার আ’ফগানি’স্তানের রাজধানী কা’বুলে মা’র্কিন গো’য়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত ড্রো’ন হা’মলায় তিনি নি’হত হন। অবশ্য এই খবর এখন পর্যন্ত নির’পেক্ষ’ভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

একজন শল্য চিকিৎসক ছিলেন আল-জাওয়া’হিরি। মিশরে ইসলামি জি’হাদ নামে জ’ঙ্গি সংগঠ’ন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আল-কা’য়েদার শীর্ষ নেতা ওসা’মা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে মা’র্কিন বা’হিনীর হাতে নি’হত হওয়ার পর আল-জাওয়া’হিরি আল-কায়ে’দার দায়িত্বগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মোস্ট ওয়া’ন্টেডের তালিকায় ছিল তার নাম। তাকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করে। যা টাকার অ’ঙ্কে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

টুইট বার্তায় বাইডেন লিখেছেন, ‘যারা আমাদের ক্ষ’তি করতে চায়, তাদের থেকে আমেরিকার মানুষকে রক্ষা করার স’ঙ্কল্প ও ক্ষমতা প্রদর্শন জারি রেখেছে আমেরিকা।’ অন্য একটি টুইটে বাইডেন লেখেন, ‘ন্যায়বিচার দেওয়া গেল।’

আল কা’য়দা জ’ঙ্গি দলে কীভাবে অভিষেক ঘটল জাও’য়াহিরির? শল্য চিকিৎসক থেকে কী ভাবে বিশ্বের ‘মোস্ট ওয়া’ন্টেড’ জ’ঙ্গি তালিকায় নাম উঠল তাঁর? ১৯৫১ সালে মিশরের রাজধানী কায়রোয় এক বর্ধিষ্ণু পরিবারে জন্ম জাওয়াহিরির। ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ আল আজহারের প্রধান ইমামের পৌত্র ছিলেন তিনি।

জাওয়াহিরির যখন ১৫ বছর বয়স, তখন প্রথম তিনি ইসলামি মৌ’লবাদ গ্রহণ করেন। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনে পড়াশোনা করেছিলেন জাওয়াহিরির। পড়াশোনায় বরাবরই ভাল ছিলেন। ১৯৭৪ সালে স্নাতক হন তিনি। মিশরের সেনাবাহিনীতে শল্য চিকিৎসক হিসাবে তিন বছর কাজ করেছিলেন জওয়া’হিরি। পরে মাদি এলাকায় নিজের ক্লিনিক খোলেন। ১৯৭৮ সালে শল্য চিকিৎসায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৮১ সালে জাওয়াহিরির সম্পর্কে প্রথম শি’হরিত হয়েছিল বিশ্ব। মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল-সাদাতের হ’ত্যা- পর’বর্তী ঘটনায় যাঁদের গ্রে’ফতার করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন জ’ওয়াহিরি। তাঁর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, সেই সময়ে জেলের মধ্যে জওয়া’হিরির উপর নি’র্মম অ’ত্যাচা’র চালানো হয়েছিল। এরপর থেকেই একের পর এক হা’মলার ঘটনায় নাম জড়ায় তাঁর। বেআ’ইনি ভাবে অ’স্ত্র রাখার অভিযোগে তিন বছর জেল হয় জওয়া’হিরির।

জাওয়া’হিরির ছদ্মনাম ছিল ‘ডাক্তার’। মুক্তি পেয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীর সঙ্গে যু’দ্ধরত আফগানিস্তানে জখম ইসলামি মুজাহিদিন গেরিলাদের চিকিৎসার জন্য ‘রেড ক্রিসেন্টে’র সঙ্গে কাজ করেছিলেন জাওয়া’হিরি। ১৯৮৫ সালে হজ করতে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন জাওয়াহিরি। পরের বছর জেদ্দায় ও’সামা বিন লা’দেনের সঙ্গে তাঁর আ’লাপ হয়। পরবর্তী সময়ে লাদেনের ব্যক্তিগত উপদেষ্টা ও চিকিৎসক ছিলেন তিনি। মুসলিম ব্রাদা’রগুড সংগঠনের হাত ধরে আল কায়’দায় যোগ দিয়েছিলেন জওহাহিরি।

১৯৯৩ সালে মিশরে ইসলামিক জি’হাদের নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন জাওয়া’হিরি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সে দেশে সরকার ফেলে ইসলামিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করার কর্মসূচির পুরোধা ছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালের জুন মাসে প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকে হ’ত্যার চেষ্টা করা হয়। তার পরই ইসলামিক জেহাদিদের ধরপা’কড় শুরু করেন মিশর কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৯ সালে জাওয়াহিরিকে মৃ’ত্যুদণ্ডের সা’জার নির্দেশ দেয় মিশরের সামরিক আদালত। তবে তাঁকে ধরা যায়নি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় জ’ঙ্গি হা’মলায় লাদেনের পাশাপাশি অন্যতম চ’ক্রী ছিলেন তিনি। এরপর বহু বছর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছিল বিভিন্ন মহল।

২০১১ সালে আমেরিকার হানায় লাদেনের হ’ত্যার পর আল কা’য়দার রা’শ যায় জাওয়া’হিরির হাতে। সে সময় থেকে আবারও চর্চায় উঠে আসে তাঁর নাম। লাদে’নের হ’ত্যার প্র’তিশোধ নিতে পশ্চিমী দেশে হাম’লা চা’লানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। তাঁর মাথার দাম ধরা হয়েছিল আড়াই কোটি ডলার।

চার বার বৈবাহিক সম্পর্কে আ’বদ্ধ হন জাওয়াহিরি। তাঁর ছয় মেয়ে ও এক ছেলে। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে আমেরিকার বিমানহানায় পুত্র মহম্মদ ও কন্যা আয়েশার মৃ’ত্যু হয়। তথ্যসুত্র: দ্যা ইকোনমিক টাইমস ও জি নিউজ।

আরও পড়ুন