বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

হিজলায় জমি আ’ত্মসাৎ করতে কিলার ভাড়া করে ছোটভাই নুরু বাবুর্চিকে খু’ন করার অভিযোগ উঠেছে বড়ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

নিহ’তের স্ত্রী খাদিজা বেগম দাবি করেন তার বড় ভাসুর দুলাল বাবুর্চি জায়গা জমি ভোগদখল করতেই খু’নের পথ বেছে নেন। নুরু বাবুর্চিকে নৃশং’সভাবে হ’ত্যা করা হয়েছে বলে জানান তার সন্তানরা।

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট বিকালে মুলাদী উপজেলার নয়াভাঙ্গনী নদীর চরডিক্রী এলাকায় একটি লা’শ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পু’লিশে সংবাদ দেন। পু’লিশ লা’শ উদ্ধার করে থা’নায় নিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে নুরু বাবুর্চির স্ত্রী ও স্বজনরা থানায় গিয়ে লা’শ শনাক্ত করেন।

নুরু বাবুর্চি গত ৭ আগস্ট বিকাল থেকে নি’খোঁজ ছিলেন। ওই ঘটনায় খাদিজা বেগম বাদী হয়ে দুলাল বাবুর্চি ও কাসেম খানসহ ১৪ জনকে আসামি করে মুলাদী থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন।

নিহ’তের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, শনিবার বিকালে হিজলা উপজেলার চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের শহীদ খানের ছেলে দুর্ধ’র্ষ কিলার কাশেম খান ফোন করে নুরু বাবুর্চিকে কথা শোনার জন্য বলেন। কাশেম খানের সঙ্গে দেখা করার জন্য নুরু বাবুর্চি ওই দিন সবাইকে বলে বাসা থেকে বের হন।

সন্ধ্যার পরে বাসায় না ফিরলে তার সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন স্বজনরা। ওই সময় মোবাইল ফোনে তিনি কাশেম খানের সঙ্গে রয়েছেন বলে জানিয়ে ছিলেন।

রাত ১০টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান স্ত্রী ও ছেলেরা। আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করে নুরু বাবুর্চিকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও পুত্ররা ৯ আগস্ট হিজলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। সেখানে থা’নার ওসি অসীম সরকার জিডি না নিয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং নুরু বার্বুচির তিন ছেলেকে জেলহাজতে পাঠান।

খাদিজা বেগম আরও বলেন, তার শ্বশুর মৃত হাচেন বাবুর্চি অনেক জায়গা জমি রেখে গেছেন। সেই জমি সবই তার ভাসুর দুলাল বাবুর্চি ভোগদখল করেন। নুরু বাবুর্চি ছোট হওয়ায় তাকে শুধুমাত্র একটি বসতঘর করার জায়গা দেওয়া হয়েছে।

চার-পাঁচ বছর আগে জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। দুলাল বাবুর্চি বেশ কয়েকবার ছোটভাই নুরু বাবুর্চিকে হ’ত্যাচেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সর্বশেষ ভাড়া করা ঘাত’ক কাশেম খানের সহযোগিতায় দুলাল বাবুর্চি, তার ছেলে হানিফ বাবুর্চি, রিয়াজ বাবুর্চি, জসিম ডিলারসহ ১৪ থেকে ১৫ জন মিলে নুরু বাবুর্চিকে হ’ত্যা করে।

নুরু বাবুর্চির বড়ছেলে ইমরান বাবুর্চি জানান, তার পিতাকে নৃ’শং’সভাবে হ’ত্যা করা হয়েছে। ঘাত’করা তার পিতার ডান হাত কেটে ফেলেছে। চোখ উপ’ড়ে ফেলে হাত-পায়ের রগ ক’র্তন, ভুঁড়ি কেটে অমানুষিক নির্যা’তন করে খুন করেছে।

শুধু তাই নয়, লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে হাত-পায়ে বালুর বস্তা বেঁধে নয়াভাঙ্গনী নদীতে ফেলে দিয়েছে। লাশ পাওয়ার সংবাদে অনেক খু’নি আ’ত্মগোপন করেছে। অনেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু পু’লিশ ও সিআইডি তদন্ত করলে হ’ত্যার সঙ্গে জড়িত সবাই চিহ্নিত হবে।

নুরু বাবুর্চির মেজো ছেলে এনামুল বাবুর্চি বলেন, আমার পিতার হ’ত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি বিশেষ মহল উঠেপড়ে লেগেছে। ওই মহলটি আমার পিতার বিরুদ্ধে মি’থ্যা অভিযোগ এনেছে। খু’নিরা টাকা দিয়ে হিজলা থা’না পু’লিশ ও সংবাদকর্মীদের কিনে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বৈরী মনোভাব সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা জানান, হত্যার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

মুলাদী থা’নার অফিসার ইনচার্জ এসএম মাকসুদুর রহমান বলেন, লা’শ উদ্ধারের পর স্বজনরা চিহ্নিত করেছেন। নিহ’তের স্ত্রী হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেছেন। মা’মলার যথাযথ তদন্ত এবং আসা’মিদের গ্রে’ফতার করতে পু’লিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন