শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ১১:৩১ অপরাহ্ন

মফিজা খাতুন মা’রা যান গত বছর ১০ মার্চ। শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তার নামে একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিল (নং-২৮৮/২১) নিবন্ধন হয় গত ৭ জানুয়ারি ২০২১।

মৃ’ত মফিজা খাতুনকে জীবিত দেখিয়ে নিবন্ধন করা এ দলিলে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ একর; যা স্থানীয় মাপে ৯ বিঘার একটু বেশি। দলিলটিতে ৩ একর জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি টাকা।

মৃত ব্যক্তিকে দাতা দেখিয়ে এ ভুয়া দলিল তৈরির ঘটনায় গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুধবার মা’মলা করেছেন মৃ’ত মফিজা খাতুনের নাতি তৌহিদ মিয়া।

মা’মলায় আলোচিত দলিলের গ্রহীতা কামরুন নেছা ও তার স্বামী জালাল উদ্দিন, সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক আজিজুল হক খোকনসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে গাজীপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মা’মলার বাদী তৌহিদ মিয়া জানান, তার নানি মফিজা খাতুন মৃ’ত্যুর প্রায় ৯ বছর আগে বিগত ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শ্রীপুর উপজেলার সাতমাখাইর মৌজায় উক্ত ৩ একর সম্পত্তি তার (বাদী তৌহিদের) মা সাহিদা খাতুনকে হেবা ঘোষণাপত্র দলিল (নং-২৪৫৭) মূলে হস্তান্তর করে যান। সম্প্রতি তারা জানতে পারেন, একটি জালিয়াত ও ভূমিদ’স্যু চক্রের যোগসাজশে তার খালা কামরুন নেছা জাল দলিলমূলে উক্ত সম্পত্তি খারিজ করে অন্যত্র বিক্রির পাঁয়তারা করছেন। এ ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জাল-জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে বুধবার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মা’মলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সোহেল রানা বলেন, জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে বাদী তৌহিদ মিয়ার নানি মফিজা খাতুনের মৃ’ত্যুর সনদ ও মৃ’ত্যুর প্রায় এক বছর পর মফিজা খাতুনকে দাতা দেখিয়ে শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন করা আলোচিত হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের অবিকল নকলের কপিসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রমাণপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আদালত ঘটনাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ জা’লিয়াতির ঘটনায় আরও যারা জড়িত আছেন এবং মৃ’ত ব্যক্তিকে দাতা দেখিয়ে নিবন্ধন করা উক্ত জাল দলিল থেকে আরও কেউ জমি ক্রয় করে থাকলে পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তারাও আসা’মি হবেন। – যুগান্তর

আরও পড়ুন