শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

মাদারীপুরে মিথ্যা মা’মলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগে বাদীকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৩ আসামির জামিনের শুনানিকালে বাদীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা। বিচারক একই সঙ্গে ওই মা’মলায় হাজতে থাকা ৩ আসামি দেলোয়ার মুন্সি মজিবর মুন্সি ও পলাশ মুন্সিকে জামিন দেন।

স্থানীয় ও মা’মলা সূত্রে জানা যায়, জেলার শিবচর উপজেলার উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামের শাহ আলম শেখের সঙ্গে একই এলাকার দেলোয়ার মুন্সিসহ অনেকের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয়পক্ষ আদালতে একাধিক মা’মলা করে। জমির মা’মলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধীদের শায়েস্তা করতে শাহ আলম শেখ তার শ্যালক ইসমাইলকে লুকিয়ে রেখে ইটালিতে আসামিদের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে পাঠানোসহ মানবপা’চারের অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষের ৬ জনকে আসামি করে গত ২৪ মে মাদারীপুর আদালতে মানব পাচার আইনে একটি মা’মলা করেন। আদালত মা’মলাটি সদর থা’নায় প্রেরণ করলে তা এজাহার হিসেবে নিয়ে মা’মলাটি তদন্তে নামে শিবচর থা’না পু’লিশ।

গত ৯ আগস্ট মামলার আসামি দেলোয়ার মুন্সি, মজিবর মুন্সি ও পলাশ মুন্সিকে গ্রে’ফতার করে আদালতে পাঠায় পু’লিশ। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠায়। আসামিরা গ্রে’ফতার হওয়ার পর ওই রাতেই স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার সালিশ হয়। ওই সালিশি রায় উভয়পক্ষ মেনে নেয়। কিন্তু একাধিকবার আদালতে জামিন আবেদন করেও আসা’মিরা জামিন পাননি। বৃহস্পতিবার আবার জামিন আবেদন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী।

এ সময় জামিন আবেদনের নথির সঙ্গে মী’মাংসাপত্রের কাগজপত্রও আদালতে জমা দেওয়া হয়। জামিন শুনানির সময় মা’মলার বাদী শাহ আলম শেখও তার শ্যালক ইসমাইল আদালতে উপস্থিত হন। এ সময় আদালতের বিচারক বাদী শাহ আলম ও ইসমাইলের জবানবন্দি গ্রহণকালে বাদী একপর্যায়ে মিথ্যা মা’মলা করার কথা স্বীকার করেন। বাদীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালতের বিচারক জেলা জজ নিতাই চন্দ্র সাহা মা’মলার বাদীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান সিং এবং আসামিপক্ষের আই’নজীবি মহিদুল ইসলাম জানান, মিথ্যা মা’মলা করার স্বীকারোক্তি দেওয়ায় বিচারক জেলা জজ নিতাই চন্দ্র সাহা বাদী শাহ আলমকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখন শাহ আলমের বিরুদ্ধে দ’ণ্ড বিধি ২১১ ধারা মোতাবেক মা’মলা করা হবে।

আরও পড়ুন