সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীর একত্র বসবাস, যা পরিচিত ভাষায় পরকীয়া হিসেবে পরিচিত তাকে আর অবৈধ গণ্য করে না ভারতের রাজস্থানের আদালত। দুই প্রাপ্তবয়স্কের নিজের ইচ্ছায় এই ধরনের জীবনযাপন এখন সমাজের চোখেও অনেকটা গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে।

কিন্তু পরকীয়ার ক্ষেত্রে নারীটি যদি বিবাহিত হন তবে আর তাকে আইনের চোখে গ্রাহ‌্য বলা যাবে না। এমন নির্দেশেই দিয়েছেন রাজস্থানের হাইকোর্ট।

রাজস্থানের ঝনঝুনু জেলার বাসিন্দা এ বছর ৩০ বছর বয়সী বিবাহিত নারী ও ২৭ বছর বয়সের এক পুরুষের যৌথ আবেদনের শুনানি করতে গিয়ে বিচারপতি সতীশ কুমার শর্মাকে নিয়ে গঠিত এক সদস্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, নারী বিবাহিত হলে সেই পরকীয়া আইনের চোখে বৈধতা পেতে পারে না।

যদিও আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, দুই আবেদনকারীই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তারা স্বেচ্ছায় একসঙ্গে বসবাস করছেন। এমনকী আদালতে তারা এও জানান, একত্রে বসবাসের জন‌্য তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

নারী বিবাহিত এই প্রসঙ্গটির ওপর জোর দেওয়া হলে আবেদনকারী জানান, তার স্বামী তার ওপর অকথ‌্য শারীরিক ও মানসিক অত‌্যাচার করায় তিনি কার্যত বাধ‌্য হয়েই আলাদা থাকছেন। পুলিশি নিরাপত্তার জন‌্যও আরজি জানান তিনি।

কিন্তু আদালত সব আরজি খারিজ করে দিয়ে জানান, গোটা বিষয়টিই অবৈধ, সমাজবিরোধী এবং আইনবিরুদ্ধ। এমনকী পুলিশি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আদালত জানিয়ে দেয়, এরা কোনো রকম সুরক্ষা পাওয়ার উপযুক্তই নন।

আদালতের নির্দেশ, সব নথি বিচার করে জানাচ্ছে প্রথম আবেদনকারী বিবাহিত এবং তিনি এখনও ডিভোর্স পাননি। তা সত্ত্বেও তিনি এখন দ্বিতীয় আবেদনকারীর সঙ্গে বসবাস করছেন। এই পরিস্থিতিতে এই সম্পর্ক অবৈধ হিসাবে বিচার্য হবে।

একই সঙ্গে আবেদনকারীদের পুলিশি নিরাপত্তা দিতে অস্বীকার করে বিচারপতি শর্মার রায়, এদের পুলিশি সুরক্ষা দেওয়ার অর্থ তাদের সম্পর্ককে পরোক্ষে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া।

রায়দানের সময় এলাহাবাদ হাই কোর্টের সাম্প্রতিককালের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি বলেন, এলাহাবাদ হাইকোর্টও এই ধরনের ঘটনায় একই নির্দেশ দিয়েছিল।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

আরও পড়ুন