সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ছয়মাস বয়সি শিশু সাইমনকে ফেলে নগদ ৮ লক্ষ টাকা এবং ৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের স্বর্নালঙ্কার নিয়ে স্থানীয় এক ব্যাটারীচালিত অটো চালকের সাথে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনায় টাকা এবং স্বর্নালঙ্কার উদ্ধারে অটোচালক আতিক মিয়াকে প্রধান আসা’মি করে আরো চার জনের নামে মা’মলা দায়ের করেছে শিশু সাইমনের বড় চাচা আনোয়ার হোসেন।

আতিক উপজেলার কাশিল ইউপি’র কাশিল উত্তর পাড়ার আজম মিয়ার ছেলে এবং প্রবাসী’র স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২১) একই গ্রামের দক্ষিনপাড়ার শফি মিয়ার মেয়ে।

দুধের শিশুকে ফেলে প্রবাসী স্বামীর মোটা অংকের টাকা নিয়ে অটোচালকের সাথে পা’লিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সুমাইয়ার ও বাদী’র পরিবার এবং মা’মলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে উপজেলার হাবলা ইউপি’র জিবনশ^র উত্তর পাড়ার ঠান্ডু মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের সাথে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। প্রায় ্একযুগ যাবত সিংগাপুর থাকার সুবাদে বিয়ের সময়ে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে প্রায় ৭ ভরী স্বর্নালঙ্কার উপহার দেন। এরই মাঝে সে পুনঃরায় সিংগাপুর চলে যায়। ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে সাদ্দাম ও সুমাইয়া দম্পতি’র ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়।

পূর্ব পরিচিত আতিকের অটোতে চলাচলের সুবাদে সুমাইয়ার সাথে আতিকের ঘনি’ষ্ঠতা বাড়তে থাকে। প্রায়ই সে সুমাইয়ার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। সাইমনের জন্মের পর সাদ্দাম তার এলাকায় জমি ক্রয়ের জন্য ব্যাংকে গচ্ছিত টাকাগুলো বাড়িতে তার স্ত্রী সুমাইয়ার নিকট রাখার বিষয়টি জানতে পারে অতিক। সে সুমাইয়াকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। জুলাই মাসের ১৮ তারিখে আতিকের হাতধরে শিশু সাইমনকে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্নালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় সুমাইয়া।

কয়েকদিন পর সুমাইয়ার পরিবার তাকে উদ্ধার করে এবং গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে টাকা ও স্বর্নালঙ্কার ফিরিয়ে দেবার শর্তে সাদ্দামের পরিবার সুমাইয়াকে গ্রহন করে। এরপর টাকা ও স্বর্নালঙ্কার ফেরত চাইলে আবারো সে আতিকের সাথে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সাদ্দামের বড়ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের আমলী আদালতে ১৮ আগস্ট একটি মা’মলা দায়ের করে।

এ ব্যাপারে বাদী আনোয়ার বলেন, আমার ৬ মাস বয়সি ভাতিজাকে ফেলে চলে যাবার পরো আমরা শুধুমাত্র এই দুধের শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয়বার সুমাইয়াকে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরো সে চলে গেলো। সে তার গর্ভের সন্তানের কথাও ভাবলো না। তাই আমরা আইনগত ভাবেই বিবাদীদের মোকাবেলা করবো।

সুমাইয়ার মা হেনা বেগম বলেন, আমি এখন ওকে আমার মেয়ে বলতে চাইনা। আমাদের কথা নাহোক, ওই শিশু দুধের বাচ্চাটার কথা ভেবেও তো সে ফিরে আসতে পারতো! এখন আমি এবং আমাদের পরিবারের সবাই সুমাইয়া, আতিক এবং যারা এদের সাথে জড়িত সকলের বিচার ও শাস্তি চাই।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মতে মামলা হয়েছে এবং এটি তদন্তাধিন রয়েছে। আসামীরা পলতক। তাদের আটক করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। – বার্তা বাজার

আরও পড়ুন