শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

মেজর সিনহা হ’ত্যা মা’মলার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) আদালতে সাক্ষ্য দেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসি। এছাড়া আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সিনহান সহচর ও মা’মলার দ্বিতীয় সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাত। তাদের দু’জনের জবানিতে উঠে এসেছে ভয়ং’কর সব তথ্য।

সোমবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এই মা’মলার শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে বুধবার (২৫ আগস্ট)।

আদালতের পিপি ফরিদুল আলম জানান, এ মামলায় ৮৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। প্রথম দুদিনে সিনহার বোন ও সিফাত সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যরা পর্যাক্রমে সাক্ষ্য দেবেন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ওসি প্রদীপ-লিয়াকতসহ মা’মলার ১৫ আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মা’মলার বাদী শাহরিয়ার ফেরদৌস আদালতকে বলেন, ‘লিয়াকত ফোনে বলেছে— ‘টার্গেট ফেলে দিয়েছি, তোরা তাড়াতাড়ি আয়।’ আরেক ফোনে তিনি বলেন, ‘স্যার একটাকে ডাউন করেছি, আরেকটারে ধরে ফেলেছি।’ সিনহা পানি ও শ্বাস নিতে চাইলে লিয়াকত গালাগাল করে কো’মরে লাথি মেরে ফেলে দেন এবং মাথা চেপে ধরেন। এর পর পু’লিশ এলে লিয়াকত নির্দেশ দেন আশপাশের মানুষকে ভ’য় দেখাতে, যাতে কেউ সিনহাকে সাহায্য করতে না পারে, ছবি বা ভিডিও করতে না পারে।

সাক্ষ্যে তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর প্রদীপ আসে, কাকে যেন ফোন করে, লিয়াকতের সঙ্গে কথা বলেন, সিনহার দিকে এগিয়ে যান, তার বাম পাঁজরে সজোরে লা’থি মারেন। এর পর তিনি জুতা দিয়ে বাম গলায় চাপ দেন, তখন সিনহা নাড়াচাড়া করে ও কাঁপতে থাকে। একপর্যায়ে তার মৃ’ত্যু নিশ্চিত করে প্রদীপ গলা থেকে পা সরিয়ে নেন। এ সময় রুবেল সাগরকে বলেন, গাড়ি থেকে ইয়াবা, গাঁজা নিয়ে আসতে হবে। রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার সিনহাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে আসামিরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দুটি মি’থ্যা মা’মলা করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। প্রদীপের প্ররোচনায় ও ফোনে নির্দেশিত হয়ে লিয়াকত সিনহাকে গু’লি করেন।

বাদী বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ জেনে আমি মা’মলা করেছি। তিনি আরও বলেন, ‘সিনহা হ’ত্যার বিচারের রায়ের দিকে সারা বাংলার মানুষ তাকিয়ে আছে। আমি ওসি প্রদীপ-লিয়াকতসহ জড়িতের দৃষ্টা’ন্তমূলক শাস্তি চাই।’ এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন শারমিন শাহরিয়ার।

মা’মলার সাক্ষী সিফাত বলেন, লিয়াকত আলী গুলি করেছিলেন সিনহা মোহাম্মাদ রাশেদ খানকে। গু’লিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। এ সময় টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে পা দিয়ে সিনহার গলায় চেপে ধরে মৃ’ত্যু নিশ্চিত করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শারমিন শাহরিয়ারের সাক্ষ্যগ্রহণের পর শুরু হয় জেরা। আসা’মিপক্ষের আইনজীবীরা জেরায় সিনহা স্বেচ্ছায় না বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, ইউটিউব চ্যানেলের বিষয়সহ বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তাকে। জেরার সময় আইনজীবীদের প্রশ্নের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত এবং সতর্কভাবে প্রশ্ন করার আহ্বান জানান। বাহাদুরি দেখানোর জন্য যেনতেন প্রশ্ন না করার অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন