বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

এ যেন এক হৃদয়-বিদারক কাহিনী। একদিনের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাবার মৃ’ত্যু আর সুদূর সাইপ্রাসে ছেলের মৃ’ত্যু। জীবনের শেষ মুহূর্তেও এসে বাবা-ছেলে একে অন্যের মুখ দেখা হল না। নাসিরনগর উপজেলায় বৃদ্ধ বাবার দাফন শেষ হওয়ার পর বিদেশ থেকে এলো প্রবাসী ছেলের মৃ’ত্যুর খবর। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-ছেলের এমন মৃ’ত্যুতে হতবিহ্বল পরিবার। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় সাইপ্রাসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা তিনি মা’রা যান। একইদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবার মৃ’ত্যু হয়।

মৃতরা হলেন- উপজেলা কুণ্ডা ইউনিয়নের কুণ্ডা বাজার এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক হামিদ হোসেন ও তার সোহেল হোসেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সোহেল পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান।

জানা যায়, বাবা মো. হামিদ হোসেন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গত ২০ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে নিউ ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২৫ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান।

জানা গেছে, সোহেলের শরীরে ২৩ জুলাই থেকে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। ২৭ জুলাই তার শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে লিমাসল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। করোনা থেকে নিমোনিয়ায় আক্রা’ন্ত হলে লিমাসল হসপিটাল থেকে তাকে রাজধানী নিকোশিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর মৃ’ত্যু হয়।

৭ বছর আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাস যান সোহেল। পড়ালেখার পাশাপাশি দেশটির লিমাসলে ডলসি ক্লাবে কাজ করতেন তিনি। সাইপ্রাসে সাধারণত কেউ করোনায় মারা গেলে লা’শ নিজ দেশে পাঠানো হয় না।

হামিদ হোসেনের ভাতিজা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমরান মিয়া বলে, চাচাকে কবরে রেখে বাসায় পরই ফোন আসে সাইপ্রাসে চাচাতো ভাই সোহেল মা’রা গেছে। গত বছর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়েও করে। এ বছর দেশে আসার কথা থাকলেও করোনায় তার সে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।

উপজেলার কুণ্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদ’য়বিদারক। একসঙ্গে তাদের দুজনকে হারিয়ে বাকরু’দ্ধ আমরা।

আরও পড়ুন