সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার এক প্রবাসীর সাথে শ্যালিকার প’রকীয়া প্রেমে কপাল পুড়েছে তার স্ত্রীর। স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তিনি এখন শ্যালিকাকে বিয়ে করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে থা’নায় অভিযোগ দিয়েও সুফল মেলেনি। এ খবরে দোয়ারাবাজার উপজেলায় তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ ৯ বছর স্ত্রীর সাথে সংসার করেন। তাদের দাম্পত্যে দুই সন্তান জন্ম নেয়। এর মধ্যে প্রবাসী হন স্বামী। প্রবাসে থেকেই স্ত্রীর আপন ছোট বোন তথা শ্যালিকার সাথে প’রকীয়ার সম্পর্ক তৈরী হয় দুলাভাইয়ের। এ দিকে স্বামীর সাথে বোনের প’রকীয়ায় কপাল পুড়েছে দুই সন্তানের জননী স্বপ্না বেগমের (২৮)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃ’ত সামসুদ্দিনের ছেলে কুয়েত প্রবাসী রশীদ আহমদ প্রায় নয় বছর আগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস গ্রামের হারুন অর রশিদের মেয়ে সপ্না বেগমের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ার পর রশীদ আহমদ কুয়েতে পাড়ি জমান। সেখানে থেকেই আপন শ্যালিকা আকলিমা বেগমের (২১) সাথে প’রকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ সম্পর্ক গোপন থাকলেও একপর্যায়ে তা জানাজানি হয়ে যায়। চলতি বছর ঈদুল আজহার আগে বড় বোন স্বপ্না বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসেন আকলিমা বেগম।

এখানে থাকাবস্থায় অন্যত্র তার বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করা হলেও দুলাভাই রশীদ আহমদ কৌশলে তাকে জিম্মি করে রাখেস। এর কিছুদিন পরই প্রবাস থেকে স্ত্রীকে তা’লাক দেন। একইসাথে শ্যালিকাকে বিয়ের চেষ্টা চালান।

এর আগে স্বপ্না বেগমের বড় ভাই জাকারিয়া বিষয়টি নিষ্পত্তি ও তার ছোট বোন আকলিমা বেগমকে উদ্ধারের জন্য দোয়ারাবাজারের থা’নায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু এ ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি।

অভিযোগকারী জাকারিয়া বলেন, ‘আমার বোন স্বপ্না বেগমের জামাইয়ের চাচা বাবুল মিয়া আমার ছোট বোন আকলিমা বেগমকে তার বাড়িতে কৌশলে জিম্মি করে রেখেছেন। স্বপ্না বেগমকে মা’রপিট করে জো’রপূর্বক তালাকনামায় দস্তখত নেয়। অতি সম্প্রতি বাবুল মিয়া মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, ‘তোমার বোনকে তালাক দেয়া হয়ে গেছে। তোমার বোনকে তুমি এসে নিয়ে যাও। না নিলে আমরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেব।’

দুই সন্তানের জননী স্বপ্না বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দু’টি সন্তান রয়েছে। আমি আমার স্বামীর সংসার করতে চাই। কিন্তু আমার কাছ থেকে চাচা শ্বশুর বাবুল মিয়া তা’লাকনামায় জোরপূর্বক দস্তখত নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। দু’টি সন্তান রেখে আমি এখন বাঁচব কিভাবে। আমার ছোট বোনের সাথে প্রবাসী স্বামীর প’রকীয়া আমার সংসারের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

দোয়ারাবাজার থা’নার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবদুলাল ধর বলেন, এ ব্যাপারে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে দেখলাম প্রবাসীর স্ত্রীর মানসিক সমস্যা থাকায় পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শ্যালিকাকে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়।

শ্যালিকাও স্বেচ্ছায় তার বোন জামাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান। পরে যারা অভিযোগ দিয়েছিল তারা এ বিষয়ে আর যোগাযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন