শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে বিয়ের নামে প্রতারণার মামলায় নুরজাহান স্মৃতি নামে এক নববধূকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে স্মৃতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নুরজাহান স্মৃতি সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুরের নূর নবীর মেয়ে। ভুক্তভোগী মো. খোকন সৌদিপ্রবাসী। তিনি কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী, মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী মো. খোকনের সঙ্গে মোবাইলে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় নুরজাহান স্মৃতির। দেনমোহরের নিশ্চয়তার জন্য প্রবাসীর বড় ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবের একটি চেক রেখে দেয় মেয়ের পরিবার। বিয়ের পর স্মৃতি স্বামীর বাড়িতে থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে স্বামীকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে জেলা শহরের উপকণ্ঠে জমি কিনতে ১০ লাখ টাকা নেন তিনি। এভাবে বিভিন্ন অজুহাতে খোকনের কাছ থেকে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

জুন মাসে সৌদি থেকে দেশে আসেন খোকন। ১৯ জুন সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মৃতিকে বিয়ে করেন। ওইদিন জোরপূর্বক স্মৃতির পরিবার খোকনের কাছ থেকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেয়। অঙ্গীকারনামায় স্মৃতিকে শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন ও ফোনে কথা বলতে বাধা না দেওয়া এবং খারাপ আচরণ না করাসহ কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়।

খোকন শর্ত মেনে বিয়ের পর স্মৃতিকে তুলে নিতে চাইলে কালক্ষেপণ শুরু করে মেয়ের পরিবার। এরই মধ্যে ১৮ জুলাই লক্ষ্মীপুর আদালতে উপস্থিত হয়ে খোকনকে তালাক দেন স্মৃতি। ওই ঘটনায় ২১ আগস্ট কমলনগর থানায় নুরজাহান স্মৃতিসহ সাতজনের নামে প্রতারণা মামলা করেন খোকনের বড় ভাই আবুল খায়ের মানিক।

মামলার বাকি আসামিরা হলেন- সালেহ আহম্মদ, মো. ইব্রাহিম, জেসমিন আক্তার, মো. রিংকু, আলী হায়দার চৌধুরী প্রিয় ও ঘটক মো. শাহজাহান। তাদের মধ্যে ঘটক শাহজাহান ছাড়া বাকি ছয় আসামি বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ওই সময় বিচারক নববধূ স্মৃতিকে কারাগারে পাঠিয়ে বাকিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

ভুক্তভোগী খোকন বলেন, স্মৃতিকে পছন্দ হওয়ায় তার সব শর্তে রাজি হয়েছি। সে বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছ থেকে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিয়ের নামে সে ও তার পরিবার পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করেছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কমলনগর থানার ওসি মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, বিয়ের নামে স্মৃতি ও তার পরিবার ওই প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আদালত পাঁচজনকে জামিন দিলেও স্মৃতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। স্মৃতি এখন কারাগারে আছেন।

আরও পড়ুন