বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

ভায়রা লিয়াকত আলীর সঙ্গে হযরত আলীর স্ত্রী সাবিনা খাতুনের অনন্ত ১০ বছর ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। শ্যালিকা-দুলাভাইয়ের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি জেনে যাওয়াই কাল হয় হযরতের। পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হ’ত্যার পর লা’শ গু’মের চেষ্টা করা হয়।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে গোয়েন্দা পু’লিশ (ডিবি)। সাবিনা ও লিয়াকত আদালতে হ’ত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের কুতিকুড়া গ্রামের আতলা বিল থেকে গত সোমবার অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে হযরতের মরদেহ উদ্ধার করে পু’লিশ। পরে জানা যায়, তিনি পার্শ্ববর্তী শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার মরিচপুরান ইউপির পূর্ব বাঁশকান্দা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। পু’লিশ লাশ উদ্ধার করলেও ক্লু পাচ্ছিল না। তার মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহতের ভাই আবু নাসের এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার থা’নায় মা’মলা করলে তদন্তভার পায় ডিবি পু’লিশ।

নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মেলে হত্যার রহস্য। হযরতের স্ত্রী সাবিনা খাতুন ও তার দুলাভাই লিয়াকত আলীকে বৃহস্পতিবার ডিবি পু’লিশ হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে তারা। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন মোদকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, লিয়াকত আলী ঢাকার উত্তরা এলাকায় কখনও রাজমিস্ত্রি শ্রমিক কখনও রিকশা চালিয়ে জীবন চালাত। অন্তত ১০ বছর আগে সাবিনা তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে আশ্রয় নেয় দুলাভাইয়ের কাছে।

বোন-দুলাভাইয়ের বাসায় থেকে বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে সাবিনা। এক পর্যায়ে সাবিনা ও লিয়াকতের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে বোনের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হলে দুই বছর আগে সাবিনা বাড়ি চলে যায়। ৯ মাস আগে সাবিনাকে ফের হযরতের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এর পরও দুলাভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক চালাতে থাকে সাবিনা। বিষয়টি এক মাস আগে ধরে ফেলেন হযরত। এ নিয়ে স্ত্রীকে শাসন শুরু করায় হত্যার পরিকল্পনা করে স্ত্রী ও তার দুলাভাই লিয়াকত।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৯ আগস্ট সাবিনা মিথ্যা কথা বলে হযরতকে লিয়াকতের কাছে গোরকপুর বাজারে পাঠায়। পরে বেড়াতে যাওয়ার অজুহাতে নির্জন স্থানে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হযরতকে হত্যার পর শরীরে কাদা মাখিয়ে পরিধেয় কাপড় মাটিচাপা দেয়। হযরতের ব্যবহূত ফোনটি নিয়ে লিয়াকত শ্যালিকা সাবিনাকে সতর্ক থাকার কথা বলে আত্মগোপনে চলে যায়।

ডিবি পুলিশের ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হযরতকে হত্যা করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

আরও পড়ুন