সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

করোনাকালে দেড় বছর ধরে বন্ধ আছে দেশের সব সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই সুযোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্রীর বাল্য বিয়ে হয়ে গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে জেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রশাসনের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে বিরোধী কর্মসূচি গ্রহণের কারণে কমে গিয়েছিল বাল্যবিয়ের প্রকোপ। তবে করোনার কারণে আবারও বেড়ে গিয়েছে বাল্যবিয়ে।

এ বিষয়ে কথা হয় আলীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফের সাথে। তিনি জানান, বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পড়ুয়া অন্তত ৫০ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ের কথা জানা গেছে। এদের মধ্যে ১৮ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। কয়েকজনের বয়স ১৮ বছর পেরিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এরই মধ্যে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বাল্যবিয়ের শিকার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাবার সাথে আলাপ হলে তিনি জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় মন বসতো না মেয়ের। ভালো পাত্র পেয়েছিলাম বলে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। আমি ভোমরা বন্দরে একটি সি অ্যান্ড এফ অফিসে কাজ করি। গরিব মানুষ, তাই ভালো পাত্র হাতছাড়া করতে চাইনি।

আরও এক ছাত্রীর অভিভাবক জানান, পাড়ার বখাটে এক যুবক তার মেয়েকে সবসময় বিরক্ত করতো। তুলে নিয়ে বিয়ে করে ফেলার হুমকিও দিতো। তাই ভয়ে ভয়ে থাকতে হতো মেয়েকে নিয়ে। ভালো পাত্র পাওয়ায় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক বিবাহ রেজিস্ট্রার জানান, বর্তমানে আইনসঙ্গত উপায়ে বাল্যবিয়ের নিবন্ধন হয় না। কিছু অসাধু রেজিস্ট্রার নকল নিবন্ধন ফরমে সই নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করছে। পরে যখন ছাত্রীদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে তখন রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। ফলে আইন করেও কৌশলের কারণে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না।

সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা ওই বিদ্যালয়ে ২৫টি বাল্যবিয়ের বিষয়ে জানতে পেরেছি। এখনো অনুসন্ধান চলছে।

তবে শুধু এই একটি স্কুলে নয়, জেলার প্রায় সব স্কুল থেকেই এমন অভিযোগ আসছে। বাস্তবে বাল্যবিয়ের এই সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করেন তিনি। – বার্তা বাজার

আরও পড়ুন