সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট (দূরপাল্লা) পরিচালনায় একচেটিয়া ব্যবসা করে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এতে ভাগ বসাতে নতুন একটি এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা করছে অঞ্চলটির আরেক সম্পদশালী প্রতিযোগী সৌদি আরব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের দুই জন ঘনিষ্ট কর্মকর্তা।

অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০১৭ সালে ‘ক্ষমতা দখলের’ পর যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান তার দেশকে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে আনতে চাইছেন। এ জন্য শিল্পোৎপাদন ও সেবা খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন তিনি।

এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি যাত্রীসেবা ও পর্যটন খাত শক্তিশালী করতে নতুন এয়ারলাইন্স চালুর বিষয়টি জানান যুবরাজ। এর প্রাথমিক মূলধন পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) থেকে যোগান দেয়ার কথাও বলা হয়, বলছেন ওই দুই ব্যক্তি।

দেশটির রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রস্তাবিত এই এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো সরাসরি ও কানেক্টিংভাবে পরিচালিত হবে সারা বিশ্বে। সে হিসেবে এটি হবে সৌদি ষষ্ঠ সরকারি বিমানসেবা প্রতিষ্ঠান। এমন সময় এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসলো, যখন করোনাকালে ফ্লাইট পরিষেবা থমকে আছে।

খবরে বলা হয়, দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে খ্যাতির শীর্ষে রয়েছে আমিরাতের সরকারি সংস্থা এমিরেটস। একইভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে টেক্কা দিতে প্রতিযোগিতা করছে কাতার এয়ারওয়েজ। তবে এ ক্ষেত্রে ধারে কাছেও নেই রিয়াদের সৌদিয়া এয়ারলাইন্স।

এদিকে, মহামারি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা দিচ্ছে অসংখ্য দেশ। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজ। কেবল এমিরেটসই জানিয়েছে, ২০২০ সালে তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার।

পরিস্থিতির মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও জাহাজসেবা খাত ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ জন্য ৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে আবুধাবি। অন্যদিকে, কাতার এয়ারওয়েজ তাদের ক্ষতির অংক প্রকাশ না করলেও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন সময়ে সৌদি আরবের নতুন এয়ারলাইন্স চালুর ঘোষণাটা বেশ তাৎপর্যপূণ। কেননা, আমিরাত ও কাতারের এই লড়বড়ে অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে কেবল পরিবল্পনা নয়, অনেক দূর এগিয়েছে দেশটি।

আরব গালফ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ রবার্ট মোগিলেনিকি বলেন, আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো। কিন্তু ইদানিং তারা বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এতে করে অঞ্চলটিতে আবারো অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন