সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৯) অপহরণের পর কেরানীগঞ্জে সাত দিন আটকে রেখে ধ’র্ষণের মামলায় আকাশ (২৫) নামের এক যুবকে গ্রে’ফতার করেছে পু’লিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফতুল্লা থা’নার শাহজাহান রি-রোলিং মিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থা’নার ওসি রাকিবুজ্জামান জানান, গ্রেফতার আকাশ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থা’নার চর মোহন লাউরানির সোবহান হাওলাদারের ছেলে। সে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুন কুটিয়ার সোহাগের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে অপহরণের পর আট’কে রেখে ধ’র্ষণের অভিযোগে আকাশ ও ধ’র্ষণে সহায়তার অভিযোগে আকাশের বোনকে (২০) আসামি করে ফতুল্লা মডেল থা’নায় মা’মলা দায়ের করেন।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, ‘ধ’র্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর স্বামী প্রবাসী। তিনি চার সন্তানকে নিয়ে ফতুল্লার লালপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন। আকাশ ভুক্তভোগীর স্বামীর আত্মীয় হওয়ায় মোবাইল ফোনে প্রায়ই তাদের কথা হতো। আত্মীয় হওয়ায় বাদীর বাসায় আকাশের যাতায়াত ছিল।’

জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে আকাশ এবং তার বোন বাদীর লালপুরের বাসায় আসে। এক পর্যায়ে তারা নিজেদের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানের কথা বলে প্রবাসীর স্ত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে বাসায় পরিবারের কোনও সদস্যকে দেখতে না পেয়ে ভুক্তভোগী চলে আসতে চাইলে আকাশ জানায়, তার ‘মা চলে আসবে’।

পরে বিকালের দিকে গৃহবধূ চলে আসতে চাইলে তাকে জোরপূর্বক ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আকাশ গৃহবধূকে ধ’র্ষণ করে। এরপর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাত ২টা পর্যন্ত আকাশ তাকে একাধিকবার ধ’র্ষণ করে। ২১ তারিখ গভীর রাতে গৃহবধূ আকাশের বাড়ি থেকে পা’লিয়ে নিজ বাসা লালপুরে চলে আসেন। বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী ফতুল্লা মডেল থা’নায় মা’মলা দায়ের করেন।

ওসি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোয়ারি) হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগে।’

মা’মলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থা’নার ওসি (তদন্ত) হুমায়ন কবির জানান, আজ দুপুরে ফতুল্লা থা’নার শিয়াচর লালখাঁ এলাকা থেকে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামা’লায় অভিযুক্ত অন্য আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন