বৃহস্পতিবার, ৩০ Jun ২০২২, ১১:০৭ অপরাহ্ন

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গড়া নতুন নিরাপত্তা জোট অকাস (এইউকেইউএস) -এ ভারত বা এ ধরনের আর কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশের নেতারা এখন যুক্তরাষ্ট্রে। রয়েছেন ভারত-জাপানের মতো কোয়াড জোটভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানরাও। এই সুযোগে শুক্রবার কোয়াডের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা।

বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জেন সাকির কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, কোয়াড জোটের বৈঠকে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ভারত-জাপানও উপস্থিত থাকবে, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মতো এশিয়ার এ দুটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের নিরাপত্তা চুক্তি করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না মার্কিনিদের।

এর জবাব দেওয়ার আগে কিছুটা মজার সুরে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি বলেন, এইউকেইউএস তাহলে কী দাঁড়াবে? জেএইউকেইউএস? জেএআইএইউকেইউএস?

এরপর তিনি বলেন, গত সপ্তাহে এইউকেইউএসর ঘোষণা কোনো ইঙ্গিত হিসেবে বোঝানো হয়নি। আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট (বাইডেন) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছেও এই বার্তাই দিয়েছেন যে, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরের নিরাপত্তায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো আর কেউ নেই।

অঞ্চলটির নিরাপত্তা জোরদারে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে নতুন নিরাপত্তা জোট গড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিন দেশের সরকারপ্রধান যৌথভাবে এ জোটের ঘোষণা দেন। মূলত ওই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি মোকাবিলায় এ জোট গড়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জোটের চুক্তি অনুসারে, অস্ট্রেলিয়াকে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তৈরিতে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় চীন। কিন্তু বিতর্কের ঝড় শুরু হয় মূলত ফ্রান্সকে ঘিরে।

২০১৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে ডিজেলচালিত সাবমেরিন কিনতে কয়েকশ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটি বাতিল করেই পারমাণবিক শক্তিচালিত অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার। এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছে ফ্রান্স।

এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠায় ফ্রান্স। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন জো বাইডেন।

গতকাল বুধবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে ফোন করেছিলেন বাইডেন। ফোনালাপে ম্যাক্রোঁকে বাইডেন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি করার আগে তাদের ফ্রান্সের সঙ্গে কথা বলে নেয়া উচিত ছিল।

এবার ভুল হলেও ভবিষ্যতে তা অবশ্যই করা হবে। বাইডেনের এই সরল স্বীকারোক্তির পর ম্যাক্রোঁ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূতকে আবার ফেরত পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন