শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

ভারতে ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত জেল খেটে যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যেমে দেশে ফিরেছে ১২ যুবতী। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার সময় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন।

ফেরত আসা যুবতীরা হলো- নরসিংদী জেলার সুমি খাতুন (২৫), খুলনার জেলার আছমা খাতুন (২৫), নার্গিস খাতুন (২৪), ঝিনাইদাহ জেলার নাজমা বেগম (২৩), নাটোর জেলার মুক্তি খুাতুন (২৪), যশোর জেলার মাহফুজা খুাতুন (২৩), শরিফা খাতুন (২৫), কুমিল্লা জেলার সেলিনা খাতুন (২৬), বরিশাল জেলার শায়লা পারভিন (২৪), ঢাকা জেলার মিতু বেগম (২৫), শিরিনা খাতুন (২৪) ও সাতক্ষীরা জেলার সুইটি খাতুন (২৪)।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি মোহাম্মাদ রাজু বলেন, ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে আজ বিকেল সাড়ে ৫টার সময় ১২ জন যুবতী দেশে এসেছে। তাদের ইমিগ্রেশন এর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। সেখান থেকে বেসরকারি দুটি এনজিও সংস্থা তাদের নিয়ে যাবে বলে এসেছে।

ফেরত আসা খুলনার আছমা খাতুন বলেন, ভালো কাজের আশায় দালালদের মাধ্যেমে গত ৩ বছর আগে ভারতের হায়দারাবাদে যাই। সেখানে বাসা বাড়ির কাজ করার সময় সেদেশের পুলিশ আটক করে জেল খানায় পাঠায়। পরে জেল থেকে প্রজ্জলা নামে ভারতীয় একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা ছাড়িয়ে এনে তাদের নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে।

জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির প্রোগ্রাম অফিসার রেখা বিশ্বাস বলেন, তারা বিভিন্ন সময়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে ভালো কাজের আশায় পাচার হয়। এরপর সেখানে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার সময় সে দেশের পুলিশের কাছে আটক হয়। এরপর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি চালাচালির একপর্যায়ে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরত আসে ।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এর সমন্বয়কারী রোকেয়া পারভিন বলেন, ফেরত আসাদের ইমিগ্রেশন ও থানার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা যশোর নিয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখব। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কেউ যদি আইনি সহয়তা চায় তাহলে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন