মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ সারাহ বেগম কবরী মারা যাওয়ার আগে গুলশানে তার বাড়িটির বিষয়ে নানা আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। এখন তার ছোট ছেলে শাকের ওসমান চিশতী অভিযোগ করেছেন, সেই বাড়িটিই দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

২৭ সেপ্টম্বর দিনগত গভীর রাতে কবরীর বাড়িটিতে কয়েকজন লোক প্রবেশ করেন। দুষ্কৃতিকারীদের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি সেবার ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেন তার ছেলে শাকের। পুলিশ এসে ঘটনার সত্যতাও পেয়েছেন। পরদিন শুলশান থানায় একটি জিডি করেন শাকের।

শাকের ওই জিডিতে জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আমার বাসার সিঁড়িতে কিছু মানুষের আনাগোনার আওয়াজ পাই। সিসি ক্যামেরায় দেখি, গ্রাউন্ড ফ্লোরের সব বাতি নেভানো। সিঁড়িতে পায়ের আওয়াজ পেয়ে ইন্টারকমে ফোন করি। কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ড ফোন না ধরায় আমার সন্দেহ বাড়তে থাকে।

২০ মিনিট পর রাত ২টা ৫০ মিনিটে ক্যামেরায় দেখি তিন ব্যক্তি মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছেন, পরে একটি মোটরসাইকেলে করে তারা চলে যান। আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি। আনুমানিক রাত সোয়া তিনটায় পুলিশ আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার সিকিউরিটি গার্ড সব লাইট জ্বালিয়ে দেন। গার্ড জানান, বাসার কেয়ারটেকার সহিদুল ইসলামের কথায় তিনি লাইট নিভিয়েছিলেন।

শনিবার (০২ অক্টোবর) জিডির তদন্তকারী শুলশান থানার কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, মঙ্গলবার কবরী ম্যাডামের ছেলের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাদের গুলশান লেক রোডের বাড়িতে যাই। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাই। সহিদুল ও সিকিউরিটি গার্ড যে লাইট নিভিয়েছিলেন, তার প্রমাণও তাৎক্ষণিকভাবে পেয়েছি। আমরা আরও তদন্ত করছি।

এদিকে শাকের চিশতি জানান, আমার মা বেঁচে থাকতেই বাড়িটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। মাকে লাঞ্ছিত ও হ’ত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওরা ভেবেছে, মা এখন আর নেই। এখন সহজে বাড়িটি দখল করতে পারবে! দেশে তো আইন-আদালত সব আছে।

প্রসঙ্গত, বাড়িটি যে জমির ওপর অবস্থিত তার মালিক কবরী। একটি ডেভলাপার কোম্পানির মাধ্যমে পাঁচতলা ভবন তৈরি করান। ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল নিচতলায় তাকে লাঞ্ছিত করায় গুলশান থানায় একটি জিডি করেছিলেন।

তখন কবরী একটি গণমাধ্যমকে জানান, তার বাড়ির দুটি ফ্ল্যাটের মালিকেরা সার্ভিস চার্জ দিচ্ছেন না। তারা বাড়িটি দখলের পাঁয়তারা করছিলেন।

আরও পড়ুন