সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

দেশের আলোচিত ও সমালোচিত অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতার হওয়ার বহু আগে থেকেই মেয়াদ ছিল না পরীমনির মদপানের লাইসেন্সের। একইসাথে তখন তার যে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছিল সেটাও ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিনেছেন তিনি।

গত আগস্টের ৪ তারিখ বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এসময় র‍্যাব জানায়, পরীমনির বাসা থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, এলএসডি ও আইস নামের মাদক পাওয়া গেছে। মাদকের এই মামলায় ৪ সপ্তাহের বেশি কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। এরই মধ্যে ৩ দফায় তাকে রিমান্ডে নয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

২ মাস তদন্তের পর গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে সিআইডি। এই অভিযোগপত্রের ব্যাপারে শুনানির জন্য আগামী ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত।

সি আইডির অভিযোগে বলা হয়েছে, চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিআইডিকে জানানো হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরীমনির নামে মদজাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৩০ জুন ওই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। পরীমনি বিভিন্ন স্থান থেকে এই মামলার দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমনি তাঁর গাড়িটি মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহার করতেন।

পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাতটি বোতলে রাখা তরল পদার্থের মধ্যে ‘অ্যালকোহল’ রয়েছে। এসব মদে অ্যালকোহলের মাত্রা যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, ১২ দশমিক ১ শতাংশ, ১৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া কাগজের প্যাকেটে রাখা দানাদার পদার্থে ‘মেথামফিটামিন’ রয়েছে। আর ব্লাটার পেপারে ‘এলএসডি’ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন