বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জের পর এবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হামছাদী কাজীরদীঘিরপাড় আলিম মাদরাসার এক শিক্ষক ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সহকারী শিক্ষক স্থানীয় জামায়াত নেতা মঞ্জুরুল কবির মঞ্জু ওই দাখিল শিক্ষার্থীদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে কেঁচি দিয়ে চুল কেটে দেন।

এ ঘটনার এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। এর আগে, বুধবার মাদরাসার বারান্দায় ঘটনাটি ঘটেছে ঘটে বলে জানা গেছে।

রায়পুরে ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা বুধবার শ্রেণিকক্ষে পাঠ কার্যক্রমে অংশ নেয়। এক পর্যায়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ছয়জনকে দাঁড় করিয়ে শ্রেণি কক্ষের সামনের বারান্দা আসতে বলেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে একটি কেঁচি এনে একে-একে সবার মাথার টুপি সরিয়ে সামনের অংশের এলোমেলোভাবে চুল কেটে দেয়। পরে ছাত্রদের কান্না করতে দেখা গেছে। এই লজ্জায় তারা লজ্জায় ক্লাস না করেই বেড়িয়ে যায়।

বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, ছাত্রদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে থাকা ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার জন্যই ঘটনাটি করা হয়েছে।

বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামমের আমির। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সবসময় দলীয় প্রভাব বিস্তার করেন। তার ভয়ে অন্য শিক্ষকরাও নিরুপায়। মঞ্জু সরকারবিরোধী আন্দোলন মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

প্রতিষ্ঠানের সুপার মাওলানা বালাকাত উল্যা বলেন, আমি অসুস্থ রয়েছি। চুল কাটার ঘটনাটি শুনেছি। কোন ছাত্র লিখিত অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হক বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। কেউ অভিযোগ করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ঘটনাটি আমি অবগত নয়। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হবে।

এর আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। অপমান সইতে না পেরে শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন তুহিন ছাত্রাবাসে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন