সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন

মাস্কাট-সোহার সড়কটির দু’পাশ দেখে চেনা মানুষটির কাছে অচেনা মনে হবে। বিশেষ করে আল সুইক থেকে শুরু করে কাবুরা পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটারের কাছাকাছি রাস্তার দু’পাশের দোকানপাট ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

উপড়ে গেছে নানা স্থাপনা। কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কজুড়ে মাটির স্তূপ। এই তো গেলো প্রধান সড়কের দৃশ্য।

প্রধান সড়ক থেকে গ্রামীণ জনপদে ঢুকতেই চোখে পড়বে ভূতুড়ে দৃশ্য। বিশাল বিশাল খেজুর বাগান মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। মুরগির খামার এখন খোলা মাঠ। বিদ্যুৎ নেই এক সপ্তাহ ধরে।

এ দৃশ্য ওমানের আল সুইক, বিদিয়া, কাবুরা নামক স্থানের। গত এক সপ্তাহ আগে ঘূর্ণিঝড় ‘শাহীন’ লন্ডভন্ড করে দিয়েছে অঞ্চলটি।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে এসব এলাকায় এমন চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। বিদিয়া বাজারের পেট্রল পাম্প এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এসেছে ওমানস্থ ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব’।

সোশ্যাল ক্লাবের হয়ে ত্রাণ দিতে আসা বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা সৈয়দ মনজুর আলম বলেন, এখানে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। বহু প্রবাসী ব্যবসায়ী সব হারিয়ে এখন পথে বসেছেন। মানুষ ত্রাণ সহযোগিতা পেতে মুখিয়ে। ওমানের বিভিন্ন সংস্থা তার ব্যক্তি উদ্যোগের ত্রাণগুলো তাদের দেশের নাগরিকদের বণ্টন করছে বলে প্রবাসীরা জানান।

বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের সাধারণ সম্পাদক এম.এন আমিন বলেন, এখানে এসে যা দেখতে পাচ্ছি তা খুবই ভয়াবহ। জানি না এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবে। আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আমি ওমানে প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে দূতাবাসকে অনুরোধ জানাবো তারা যেন আরও ব্যাপকহারে খাদ্যসামগ্রীসহ নানাভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়ায়।

গত রোববার (৩ অক্টোবর) ঘণ্টায় বাতাসের সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগ নিয়ে ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় শাহীন, এর সঙ্গে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতে দেশটির ওই অঞ্চলের বিশাল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

পাশাপাশি এটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিসতান-বালুচিস্তানের উপকূলে আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ওমান ও ইরানের মোট ১৩ জন মারা যাওয়ার খবর দিয়েছে বিবিসি।

আরও পড়ুন