সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুই হাজার গ্রাহককে ‘লাখপতি’ বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে ল্পাত্তা হয়ে গেছে বেস্টওয়ে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি (বিএমসি এন্টারপ্রাইজ) নামে একটি এনজিও। গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাওলানা মো. আফজাল হোসেন।
অভিযুক্ত মাওলানা মো. আফজাল হোসেন ঐ উপজেলার মাধবপুর পশ্চিমপাড়ার ইয়াকুব মেম্বারের ছেলে। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিজ নামে ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি।

জানা গেছে, গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে জমানো আমানতের টাকা ফেরত চাইলে দেই দিচ্ছি বলে নানা টালবাহানা করতে থাকেন আফজাল হোসেন। এক পর্যায়ে গ্রাহকদের চাপের মুখে ৯ অক্টোবর এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান। এরপর থেকেই সিংগাইর উপজেলার চান্দহর বাজারে অবস্থিত বিএমসি এন্টারপ্রাইজের অফিস তালাবদ্ধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চান্দহর বাজারের মজিবর রহমানের বিল্ডিং ভাড়া করে ২০১২ সাল থেকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে বিএমসি এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছিলেন আফজাল হোসেন। এরপর এলাকার মানুষের কাছ থেকে প্রতি মাসে এক লাখে ১০০০-১৫০০ টাকা মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। আর তা দিয়ে নিজের নামে গড়ে তোলেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

অভিযুক্ত মাওলানা মো. আফজাল হোসেনের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ঢাকার বালাদ মেটাল, মানিকনগরে বালাদ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসা, সাভারের শেফা হোমিও হল, বালাদ বেকারি, সিংগাইরের মাধবপুরে ইকরা আধুনিক উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দহরে শেফা ফার্মেসি, বালাদ মুদি স্টোর ও গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান।

চান্দহর বাজারের ভুক্তভোগী মো. নজরুল ইসলাম জানান, তিনি দেড় বছর আগে লাখপ্রতি মাসিক ১০০০ টাকা লাভে বিএমসিতে পাঁচ লাখ টাকা রেখেছিলেন। ২-৩ কিস্তিতে লাভের টাকাও পেয়েছেন। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে লাভ তো দূরের কথা মূল টাকাও পাচ্ছেন না।

তিনি আরো জানান, তার মতো অনেকেই বিএমসি এন্টারপ্রাইজে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত জমা রেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের গা- ঢাকা দেওয়ার খবর শুনে তাদের হতাশায় দিন কাটছে। প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযুক্ত বিএমসি এন্টারপ্রাইজের মালিক মাওলানা মো. আফজাল হোসেন বলেন, করোনাকালে ব্যবসায় ধস নামার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায় বিনিয়োগসহ সব মিলিয়ে এখনো চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে। আমি আস্তে আস্তে গ্রাহকদের আমানতের পুরো টাকা পরিশোধ করে দেব।

সিংগাইর উপজেলা সমবায় অফিসার আখিনুর ইয়াসমিন বলেন, বিএমসি এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন আছে বলে আমার জানা নেই। এমনকি মৌখিক কোনো অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন