বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০১ অপরাহ্ন

হারিয়ে যাওয়ার ৪০ বছর পর মা-বাবার কাছে ফিরে এসেছেন মিনতি বেগম (৪৭)। হারিয়ে যাওয়া ৬ বছরের মেয়ে মিনতি এখন সম্পূর্ণ্ একজন নারী।

রোববার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রামে বাবা-মা ও অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হয় মিনতির। এ সময় বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

শাহরুখ নয়ন নামের এক তরুণের উদ্যোগে মিনতি তাঁর পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন।

শাহরুখ নয়ন জানান, তার বাড়ি গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুর এলাকায়। ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পড়াশোনারত অবস্থায় পরিচয় হয় মিনতির মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে। তাদের কাছেই তিনি মিনতির হারিয়ে যাওয়ার গল্প শোনেন। মিনতির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন রাজশাহী জেলার কাছিকাটা গ্রামে তার বাসা।

এতটুকু ছাড়া মিনতি আর কিছুই বলতে পারেননি। মিনতি যখন হারিয়ে যান তখন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছিল। যেহেতু নিজ উপজেলায় কাছিকাটা গ্রাম রয়েছে এ জন্য তিনি গ্রামে এসে সবার কাছে মিনতির বর্তমান ছবিসহ লিফলেট বিতরণ করেন।

এরই এক পর্যায়ে রানীগ্রাম এলাকা থেকে একটি ফোন আসে মিনতির বিষয়ে। মিনতি মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ছোট বেলার কিছু চিহ্ন ও স্মৃতি রয়েছে সেই সূত্র ধরেই আপন ঠিকানার সন্ধান পায় মিনতি। এরপর মিনতিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মিনতির ভাই তাছের আলী জানান, তারা চার ভাই-বোন ছিলেন। তার মধ্যে মিনতি ছিলো সবার ছোট। মিনতির বয়স যখন ৬ বছর তখন সে চাচাতো বোন জামাইয়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে বেড়াতে যায়। সেখানে দুলা ভাইয়ের সঙ্গে রেল স্টেশনে ঘুরতে যেয়ে হারিয়ে যায় সে।

পরে স্থানীয় মসলেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি মিনতিকে তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানেই বড় হয় মিনতি। মসলেম উদ্দিন পরে মিনতিকে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী বুরহান উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে দেন। ৪০ বছর পর নিজের হারানো বোনকে খুঁজে পেয়ে আবেক আপ্লুত সবাই।

মিনতি বেগম জানান, ৪০ বছর পর তিনি তার আপন ঠিকানা ও মা-বাবা ভাই বোনের দেখা পাবেন তা কল্পনাও করেননি। নিজের মা-বাবা আত্মীয় স্বজনদের কাছে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।

আরও পড়ুন