সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ১২:৩২ অপরাহ্ন

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। দিনটিকে বিএনপি-জামায়াতসহ জোটের রাজনৈতিক দলগুলো কালোদিন হিসেবে পালন করে থাকে। এ উপলক্ষে শনিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ফোরাম নামে একটি সংগঠন ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসন: প্রেক্ষিত ২৮ অক্টোবর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াতের নেতা অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, জোটের দু’টি বড় দল কেন সেদিন দুই জায়গায় সমাবেশ করলো। যখন সহিংসতা শুরু হয়, তখন কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভূমিকা নেয়নি। ওই সময় তো জোট নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় ছিলো। দায়িত্বশীল মন্ত্রীও তাদের ছিলো।

তখন মঞ্চে উপবিষ্ট বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ রাগান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে যান। তিনি বলেন, তিনি থাকতে কেন এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। জবাবে জামায়াত নেতা সাইফুর রহমান বলেন, আমি এখানে একজন আইনজীবী হিসেবে বক্তব্য রেখেছি। আমার মূল্যয়ন আমি করেছি। স্যার আপনি আপনার বক্তব্য রাখবেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তোমার কথায় কাউন্টার করবো কেন? সাইফুর বলেন, স্যার আপনাকে কাউন্টার করতে বলিনি। এসময় পাশ থেকে একজনকে স্যরি বলতে শোনা যায়।

রাগ হয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই জামায়াত বাংলাদেশকে আজকের এই জায়গায় এনেছে। এই জামায়াতের ফাজলামোর কারণে’। তখন পাশে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, বিএনপি নেতাদের সিরিজ বৈঠকে জামায়াতকে নিয়ে দুই ধরণের মতামত পেশ করা হয়েছে। একটি অংশ জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে, অন্য একটি অংশ ২০১৮ সালের নির্বাচনেই জামায়াতকে দূরে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে মত দিয়েছিল।

তবে জামায়াত জোট ছাড়া কিংবা থাকা নিয়ে তেমন চিন্তিত নয়। তাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, জোট ত্যাগের দায় তারা নিবে না। বিএনপি যদি ছেড়ে দেয় তাহলে দ্বিমত করবে না।

আরও পড়ুন