শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

দ্বিতীয় ধাপে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১ নং ইসলামপুর ইউপিতে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হেকিম। তবে তার প্রতিদ্বন্ধি টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও সিলেট পশ্চিম এবং সুনামগঞ্জ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি সুফি আলম সোহেল জয়লাভ করেন। ভোট ব্যবধান ছিল প্রায় দেড় হাজার।

গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল। নির্বাচনে জয়লাভ করায় সংবর্ধনা দেয়া হয় তাকে। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমানসহ জেলা বারের সভাপতি।

জামায়াত নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতার যোগদান নিয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের আওয়ামী ঘরনার রাজনীতিবিদদের মধ্যে চলছে তোলপাড়।

জানা যায়, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হেকিমকে পরাজিত করে বিজয়ী হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে সুফি আলম সোহেলকে গত শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় মাদ্রাসা বাজার মাঠে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার হলে অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, সুফি আলম সোহেল জেলা বারের একজন সদস্য। তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করায় তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেই সংবর্ধনা আমি ও জেলা বারের সভাপতিসহ অন্যদের নিমন্ত্রণ করলে আমরা অনুষ্ঠানে যাই। সোহেল জেলা বারের সদস্য হিসেবেই আমি অনুষ্ঠানে গিয়েছি। অন্য কোনো কারণে নয়।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেল জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতা এ বিষয়ে তিনি বলেন, সোহেলের সংবর্ধনার অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা ছিল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। সে জামায়াত নেতা কিনা সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

ছাতক উপজেলার ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেল বলেন, আমি একসময়ে শিবিরের রাজনীতি করেছি। ওই সময়ে আমি সিলেট জেলা পশ্চিমের সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। এরপর সুনামগঞ্জ জেলা শিবিরের সভাপতি দায়িত্ব পালন করি। তবে আমি জামায়াতের কোনো পদে প্রায় ১২ বছর থেকে নেই। আমি সবসময় জনগণ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করে আসছি।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান দাবি করে তিনি বলেন, আমার চাচা মখলিছুর রহমান বিএনপির রাজনীতি করতেন। তিনি যুদ্ধের সময় শাহাদৎ বরণ করেন। সেই সাথে আমার পিতা নুরুল ইসলাম সিলেট মদন মোহন কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। যুদ্ধের সময় আমার পিতাকে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী সেনারা গুলি করে ছাতকে হত্যা করে। আমরা পরিবারের অনেক সদস্য রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা।

এ বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ছাতক উপজেলার গনেশপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নেছার আহমদ বলেন, আমাদের দলীয় প্রার্থী আব্দুল হেকিমকে পরাজিত হতে হয়েছে জামায়াত নেতা সুফি আলম সোহেলের কাছে। এতে করে আমরা এমনিতেই হতাশ। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া সোহেলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবার সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান অতিথি হওয়াতে আমাদের হতাশা ও দুঃখ আরও বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন