বুধবার, ২৯ Jun ২০২২, ০৭:২১ অপরাহ্ন

রাসেল মিয়া, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বাউসাইদ গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিনের ছেলে। কৃষিকাজই তার একমাত্র সম্বল। আড়াই মাস আগে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর গ্রামের মুন্নু খার মেয়ে মিতু আক্তারের সঙ্গে রাসেলের বিয়ের কাবিন হয়। তার বাবার ইচ্ছে ছিল হেলিকপ্টারে বউ আনবে ছেলে। অবশেষে সে ইচ্ছে পূরণও হয়েছে।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে নববধূকে ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইলে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন রাসেল। বিয়েকে কেন্দ্র করে বাড়ির আশপাশের গ্রামজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ছিল বাদ্যের ঝংকার, হরেক রকম খাবারের আয়োজন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুরে ছেলের বাড়ির পাশে কৃষি জমিতে হেলিকপ্টার আসে। ওই হেলিকপ্টারে চড়ে বর রাসেল যান কনের বাড়িতে। এর আগে দুটি প্রাইভেটকার ও একটি বাসে চড়ে কনে বাড়ি যান বরযাত্রীরা। বিয়ের পর্ব শেষে বিকেলে আবার কনেকে নিয়ে হেলিকপ্টারে ফিরে আসেন তিনি।

প্রত্যন্ত গ্রামে হেলিকপ্টারে বর আসাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ। এ আয়োজনে কোনো কমতি রাখেননি বাবা। যা প্রশংসা কুড়িয়েছে আগত অতিথিদের। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন সামাল দিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পুলিশের টিম।ওই বিয়ের একজন অতিথি বৃদ্ধ জিন্নাত আলী (৮০)। তিনি বলেন, আমার বয়সেও এমন বিয়ে দেখিনি। হেলিকপ্টারে করে বউ আনে এটা প্রথম দেখলাম। রাসেল এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বর রাসেল মিয়া বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হেলিকপ্টারটি ভাড়া আনা হয়। টাঙ্গাইল থেকে রওনা দিয়ে ময়মনসিংহের বাটাজোর থেকে নববধূকে নিয়ে ফিরে এসেছি।

কনে মিতু আক্তার বলেন, আমি কখনো কল্পনাও করিনি আমার বর আমাকে হেলিকপ্টারে করে তার বাড়ি নিয়ে যাবে। এতে আমি খুবই খুশি।রাসেলের বাবা মহিউদ্দিন বলেন, আমার ইচ্ছে পূরণে ছেলে এমন আয়োজন করেছে। এতে আমি বেজাই খুশি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মুসা দেওয়ান বলেন, হেলিকপ্টারে চড়ে এ বিয়েকে কেন্দ্র করে আমাদের গ্রামে সকাল থেকেই উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বড় বড় অনুষ্ঠানেও এত লোক আসে না।নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান মুন্সি বলেন, বর পক্ষ নিরাপত্তার জন্য এক সপ্তাহ আগে থানায় আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। – jagonews24

আরও পড়ুন