সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

নাহিদ নামে এক বিতর্কিত যুবকের একটি ফেসবুক পেজে (www.facebook.com/nahidrains) লাইভে লাগামহীন ও চরম আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে তীব্র রোষানলে পড়েছেন সদ্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। ওই বক্তব্যগুলোর জেরে তুমুল সমালোচনার মধ্যে পদত্যাগ করেন ডা. মুরাদ হাসান।

ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নাহিদ নামে ওই যুবক তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার নাতি জাইমা রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উসকানিমূলক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তার প্রশ্নের উত্তরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও জামালপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান একের পর এক অশালীন অশ্রাব্য মনগড়া বক্তব্য দিতে থাকেন।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত ওই যুবকের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি ভাইরাল হবে এমন টপিক নিয়েই নানা উসকানিমূলক কনটেন্ট নিয়মিত তৈরি করেন। তার ওই কনটেন্টগুলোতে তথ্য প্রমাণ তেমন থাকে না। মিথ্যা ও গুজব সমৃদ্ধ কনটেন্টের কারণে এর আগে ফেসবুক তার পেজ রিমুভ করে দেয়।

এরপরও থেমে থাকেনি তার কার্যক্রম। পুনরায় আবারও নতুন পেজ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে আসছে।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে নাহিদের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন ডা. মুরাদ হাসান। লাইভের এক পর্যায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করার আমন্ত্রণ জানান। ওই সময় তার চোখে মুখে ছিল বিশেষ কিছু শোনার। তার অঙ্গভঙ্গি ও উৎকট হাসি নিয়ে ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ট্রল হচ্ছে। নেটিজেনরা তার শাস্তি দাবি করে নানা কমেন্ট করছেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের আপত্তিকর বক্তব্য ও অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সব ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম থেকে অডিও-ভিডিও সরাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আগামীকালের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডা. মুরাদ হাসানের অশ্লীল অডিও-ভিডিও অপসারণ করতে আদালতের দ্বারস্থ হন ব্যারিস্টার সুমন।

ব্যারিস্টার ‍সুমন আদালতে বলেন, জরুরিভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অশ্লীল অডিও-ভিডিওগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন। অপসারণ না করলে অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরা এই ধরনের গালাগালি এবং অশ্লীল কথা বার্তা শুনে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই প্রতিমন্ত্রীর অশ্লীল অডিও-ভিডিও দ্রুত সরাতে বিটিআরসির প্রতি নির্দেশনা প্রার্থনা করছি।

কে এই নাহিদ রেইন্স

নাহিদ রেইন্সের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারের সঙ্গেও প্রতারণা করার অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সামিউল বাসির বিন হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নাহিদ রেইন্স ওরফে নাহিদ হেলাল একজন প্রফেশনাল প্রতারক। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার দুলাভাইয়ের ১২ লাখ টাকা মেরে দিয়েছিল। পুলিশ এজন্য গ্রেফতার ও করেছিল ২০১২ সালে। এরপর জামিনে বের হয়ে ঢাকায় আসেনি বহু ছর। অনেকের টাকা মেরেছে। সবচাইতে কষ্ট লাগে, দলের অনেক হাইপ্রোফাইল নেতার সঙ্গে যখন নিয়মিত ওর ছবি দেখি। এই ছবিগুলো ওর প্রতারণার হাতিয়ার। যিনি ওর সাথে ছবি তুলছেন, জানতেও পারছেন না হয়তো যে কতো বড় একজন প্রতারকের সঙ্গে তারা ছবি তুলছেন।

জানা গেছে নাহিদ রেইন্স এর প্রকৃত নাম নাহিদ করিম হেলাল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিলো এবং বেশ কিছু দিন কারাগারেও ছিলেন তিনি। নাহিদের প্রতারণার শিকার একজন হলেন অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন প্রবাসী মিরাজ নাঈম।

তিনি যুগান্তরকে জানান, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য চুক্তি করে তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা নিয়ে সেই টাকা আত্মসাত করেছেন নাহিদ। এরপর টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে শাহবাগ থানায় ২০১২ সালে জিডি করেন। এক পর্যায়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হন মিরাজ নাইম। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাহিদকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে আটকে রাখে এবং তিন দিন পর তাকে জামিনে ছাড়া হয়। এসব খবর তখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিলো।

মিরাজ বলেন, ”ও শুধু আমার না, আরও অনেকের টাকা এভাবে আত্মসাৎ করেছে বলে শুনেছি। মামলা করার পর তার বাবা মা আমাকে অনুরোধ করেছিলো মামলা উঠিয়ে নিতে। কিন্তু আমার টাকা তারা শেষ পর্যন্ত কেউ দেয়নি। – যুগান্তর

আরও পড়ুন