শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

আমি নির্দোষ। আমি নির্দোষ হবো।কেন আমার মৃত্যুদণ্ড হবে? আমার কি দোষ?? এভাবেই চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিজানুর রহমান মিজান। তিনি আবরারের রুমমেট ছিলেন। শিবির সন্দেহে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মম এবং নিষ্ঠুরভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে,

যা দেশের মানুষকে ব্যথিত করেছে।বুধবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামির মধ্যে মিজানুর রহমান মিজান একজন।

রায় শেষে যখন এজলাস থেকে কারাগারে নিতে প্রিজন ভ্যানে দণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামিকে ওঠানো হচ্ছিলো তখন হঠাৎ করেই চিৎকার করে কান্নাজনিত কণ্ঠে মিজান বলছিলেন, ‘আমি আবরারের রুমমেট ছিলাম, এটাই আমার অপরাধ। জজ রায় পড়া শেষে নিজে বলেছেন, মিজানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাহলে কেন আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে? সেখানে সাংবাদিক, আইনজীবীরা ছিলেন,

সবাই শুনেছেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগে কোনো প্রমাণ পায়নি। আমি নির্দোষ ছিলাম, আমি নির্দোষ হবো। তিনি কাঁদতে কাঁদতে আরও বলছিলেন, আমার পরিবারকে দেখার মতো কেউ নেই। কি হবে এখন। আমি পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অনেকেই চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই আদলত প্রাঙ্গণে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের আদালতের গারদখানায় রাখা হয় এবং দুপুর ১২টা নাগাদ এজলাসে উঠানো হয়। রায় শেষে একদিকে যেমন আবরারের বাবা ভি চিহ্ন দেখান। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আত্মীয়দের আহাজারি করতে দেখা যায়।

এ সময় আদালত এলাকায় আইনজীবী, সাংবাদিক ও আসামিদের আত্মীয় স্বজনে প্রায় পরিপূর্ণ ছিল।

আরও পড়ুন