সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ১২:১২ অপরাহ্ন

২৫০০ বরযাত্রী নিয়ে হাতির পিঠে চড়ে বাড়িতে বউ এনেছেন ইরাক প্রবাসী যুবক মো. রতন প্রামানিক। শুক্রবার তার বাড়িতে বিশাল আয়োজনে বউভাত অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে কনের বাড়ি থেকে হাজারো আত্মীয়-স্বজন এবং প্রায় আড়াই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত হয়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভার কোহিত মহল্লায় জমকালো এ বিয়ের আয়োজনে সবমিলিয়ে

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। এত বড় আয়োজন শুধুমাত্র শখের বশে বলে জানিয়েছেন বরের পালিত বাবা (চাচা) সাবেক ইউপি সদস্য রব্বেল প্রামানিক।দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রব্বেল প্রামানিকের বাড়িতে দীর্ঘ সারিতে তৈরি ১৯টি চুলায় রান্না হচ্ছে নানা রকমের খাবার। সেখানেই ব্যস্ত অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। একটু এগিয়ে যেতেই বিয়েবাড়িতে দেখা গেল নানান মানুষের আনাগোনা। বাড়ির বাইরের উঠোনে প্যান্ডেল করা হচ্ছে বিশেষ অতিথিদের জন্য। সেখানে একযোগে বসতে পারবেন প্রায় ১০০ মেহমান।

সামনে অগ্রসর হতেই চোখ পড়ল বাড়ির পাশের মাঠে। সরিষার ক্ষেত পেরিয়ে দেখা গেল মেহমানদারির জন্য করা হয়েছে বিশালাকৃতির প্যান্ডেল। যেখানে প্রায় আরো অর্ধশতাধিক মানুষ কাজ করছেন সেটি প্রস্তুত করতে। যেখানে একযোগে খেতে বসবেন প্রায় ৯শ মানুষ। এখানে ৪ বৈঠকে ৩ হাজারের বেশি আমন্ত্রিতদের খাওয়ানো হবে বলে জানান খাওয়ানোর দায়িত্বে থাকা সাবেক ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন।ইসমাইল হোসেন বলেন, এত মানুষকে খাওয়ানোর জন্য জায়গা নেই। তাই মাঠের মাঝে এই জায়গাটি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমে নারীদের খেতে দেওয়া হবে।

রতনের দুলাভাই বারুহাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম মনি বলেন, আমার শ্বশুরের স্বপ্ন ছিল তার ছোট ছেলের বিয়ে তিনি আগেকার যুগের রাজাদের মতো করে করবেন। ততটুকু না পারলেও তিনি তার সাধ্যানুযায়ী করেছেন। এটাতে আমরাও সবাই খুশি। এদিকে প্রবাসী রতনের বিয়েতে প্রতিবেশীরাও দারুণ আনন্দে মেতেছেন। হৈ চৈ পড়ে গেছে আশপাশের এলাকাতেও। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, তাড়াশ থানায় এর আগেও একজন হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেছেন, কিন্তু আড়াই হাজার বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করা এটাই প্রথম। বিষয়টি তারা উপভোগ করছেন। এটাতে পুরো এলাকার মানুষই আনন্দিত। সবার মাঝে একটা উৎসব মুখর পরিবেশের তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে নববধূ মোছা. জোসনা খাতুন বলেন, বিষয়টি দারুণ লেগেছে। এত বরযাত্রী যাওয়া নিয়ে আমার বাবার ও পরিবারের কারো আপত্তি ছিল না।ইরাক প্রবাসী রতন প্রামানিক বলেন, বাবা-মা ও সবার শখ মেটাতেই এমন আয়োজন। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও আনন্দিত। রতনের পালিত বাবা সাবেক ইউপি সদস্য রব্বেল প্রামানিক বলেন, এত বরযাত্রী নিয়ে যাওয়ায় মেয়ের বাবা বরং খুশি হয়েছেন। কারণ তিনি নিজেও বড় করে আয়োজন করতে বলেছিলেন। তাছাড়াও আমরা ২৫ বছর আগেই ভেবেছিলাম এই ছেলের বিয়েতে এমন একটি আয়োজন করব। কনের বাড়ি থেকে এক হাজার মানুষ আসছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। অনেকটা শখ ও আনন্দের জন্যই এই বৃহৎ আয়োজন।

কোহিত মহল্লার বাসিন্দা তাড়াশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রব্বেল প্রামানিক এলাকায় বেশ পরিচিত। প্রায় বছর ২৫ বছর আগে তার বড় ভাই মো. একদিল প্রামানিকের স্ত্রী সন্তান প্রসবের পর মারা যান। ওই সময় রব্বেল প্রমানিক ও তার স্ত্রী কমেলা খাতুন মা হারা নবজাতক ছেলে সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাকে কোলে তুলে নিয়ে নাম রাখেন মো. রতন প্রামানিক। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সামনে ঘোষণা দেন ছেলে বড় হলে তাকে হাতির পিঠে চড়িয়ে বিয়ে করাতে নিয়ে যাবেন এবং হাতির পিঠে চড়িয়ে নতুন বউমাকে বাড়িতে নিয়ে আসবেন।সেই থেকেই মো. রতন প্রামানিক ওই বাড়িতেই বড় হয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি জীবিকার তাগিদে ইরাকে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার প্রবাসী রতন প্রামানিকের বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। কনে একই উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের দিঘিসগুনা গ্রামের রইচ উদ্দিনের মেয়ে জোসনা খাতুন।

আরও পড়ুন