শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৩০ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপ এলাকা থেকে অপহৃত ৪ স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহরণের ৩ দিন পর শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের শালবাগান পাহাড়ি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব ও যৌথবাহিনী তাদেরকে উদ্ধার করে। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোরে আরেক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে র‍্যাব।

উদ্ধারকৃত ছাত্ররা হলেন, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেচারদ্বীপের মংলাপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কায়সার, মিজানুর রহমান নয়ন, জাহিদুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদেরকে অপহরণ করে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায় দুই রোহিঙ্গা। পরে চার স্কুলছাত্রকে গহীন পাহাড়ে ৩ দিন আটকে রেখে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে রোহিঙ্গারা। নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্ররা ফিরে এসে নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন।

এদিকে ছাত্রদের উদ্ধারে হ্নীলা থেকে টেকনাফের নয়াপাডা, শালবাগান ও লেদা পর্যন্ত ফাঁদ পেতে বসে র‌্যাবের আভিযানিক দল। তারপর নয়াপাড়া ক্যাম্পে মুক্তিপণ নিতে আসা অপহরণকারী একজন আটকে যায় র‌্যাবের জালে। তার সূত্র ধরে উদ্ধার হয় কায়সার ও মিজানুর রহমান নয়ন। তারপর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) জাহেদকে ও মিজানকে র‌্যাব উদ্ধার করে।

অপহৃত হওয়ার তিন দিন পর মুক্তি পেয়ে শনিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে চার স্কুল ছাত্র মুক্তি বিষয়ে বর্ণনা দেন।

চার স্কুলছাত্র জানান, গত ৭ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিমের সঙ্গে তারা টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর খাওয়া-দাওয়া করে রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ওঠার পর তাদের একটা বাগানে নিয়ে যায় জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিম। বাগানে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে মুখোশ পরা ৮ থেকে ১০ জন লোক আসে। সেখান থেকে তাদের তুলে নেওয়ার পর পরই চোখ বেঁধে ফেলা হয়। মুখসহ পুরো মাথায় মুখোশ পরিয়ে দেয় তারা। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। কয়েকটি স্থান পরিবর্তন করে অপহরণের পরপরই তাদেরকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। দুইদিন আমাদের হাত ও চোখ বেঁধে মুখোশ পরিয়ে রাখে তারা।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক লে. কর্নেল খাইরুল আমিন সরকার বলেন, উদ্ধার হওয়া নয়ন ও কায়সার জানিয়েছেন তাদের বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ক্যাম্পের গহীন পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। তারপর মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের টিম কৌশল অবলম্বন করে অক্ষত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। তাদেরকে কোনো মুক্তিপণ দিতে হয়নি।

আরও পড়ুন